রোহিঙ্গা ইস্যুতে শুরু থেকে চীন, ভারত ও রাশিয়া অমানবিক অবস্থানে থাকলেও জাতিসংঘের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্টনিও গুতেরেস রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই এই সমস্যার সমাধান করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশ হিসেবে চীন ও রাশিয়ার মিয়ানমারপ্রীতির কারণে এ বিষয়ে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছিলেন না তিনি। অবশেষে যখন নিরাপত্তা পরিষদের ৭ স্থায়ী-অস্থায়ী সদস্য দেশ অ্যান্টনিও গুতেরেসের কাছে এই ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠকের অনুরোধ জানায়, তখন বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বের মানবিক বোধসম্পন্ন মানুষ যেন আশার আলো দেখেছিল। কিন্তু সারাবিশ্বের অধিকাংশ মানুষের আশায় যেন গুঁড়েবালি! কেননা চীন ও রাশিয়ার বিরোধিতার কারণে কোন ধরণের সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক। এই বিষয়টি রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে একটি বড় ধাক্কা বলেই আমরা মনে করি। চীন ও রাশিয়ার মিয়ানমারকে সমর্থনের বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আপনারা একদিকে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিবেন আবার নির্যাতনেও সমর্থন করবেন এটা হতে পারে না। ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের সঙ্গে আমরা একমত পোষণ করি। আমরাও মনে করি, নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকটের সময় এই সংকটের মূলে থাকা অমানবিক মিয়ানমারকে তারা সমর্থন করতে পারে না। সভ্যতার এই যুগে মানবিক সংকটে মানুষের পাশে না দাঁড়িয়ে গণহত্যাকারীর পাশে দাঁড়ানো কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। তাই নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে চীন ও রাশিয়াকেও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নিজেদের সকল স্বার্থ ভুলে এসব নির্যাতিত মানুষের নাগরিকত্ব দিয়ে নিজেদের ঘরে ফিরিয়ে নেয়ার জন্য মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রসহ রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানের পক্ষে কথা বলা সকল দেশকে আমরা ধন্যবাদ জানাই। ভবিষ্যতেও মানবতার পক্ষে তাদের এই মনোভাব অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করি।তবে চীন ও রাশিয়ার মিয়ানমারপ্রীতি ঠেকাতে বাংলাদেশকে আরও কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। নিরাত্তা পরিষদের এই সিদ্ধান্তহীন জরুরি বৈঠককে আমরা রোহিঙ্গা ইস্যুর শেষ বলে মনে করি না, বরং বাংলাদেশের কার্যকর কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে বলে আমরা আশা করি।









