সূর্যের মতো গোল আলো ফেলা হলো একটি সাদা পর্দায়। পর্দার পেছনে আলোক উৎসের সামনে বসা এক যুবক। আলোর সামনে হাত রাখতেই পর্দায় কালো ছায়া পড়ল হাতের। মুহূর্তেই সেই ছায়া হয়ে গেলে পাখির মতো। পাখি হলো জিরাফ। জিরাফ হলো আদুরে বিড়াল। বিড়াল হলো শেয়াল। আকাশের দিতে তাকিয়ে শেয়াল কিছুক্ষণ ডাকাডাকি করে হয়ে গেল হুতুম পেঁচা। মঞ্চে কয়েকশ দর্শক এতটাই মুগ্ধ হয়ে আলো ছায়ার খেলা দেখল যে তালি দিতেও ভুলে গেল।
মুগ্ধ তো হতেই হবে। বাংলাদেশের দর্শকদের মুগ্ধ করতে যে সুদূর চীন থেকে উড়ে এসেছেন এই অ্যাক্রোবেটিক শিল্পী। তার মতো আরও ২৭ জন নৃত্য ও সার্কাস শিল্পী এসেছেন।
আজ শনিবার বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় চীন বাংলাদেশে সংস্কৃতি আদান-প্রদানের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ-চীন কালচারাল ইকোনমিক সেন্টার ও বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ প্রচেষ্টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বাংলাদেশস্থ চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিনজিয়াং, বাংলাদেশ-চীন কালচারাল ইকোনমিক সেন্টারের সেক্রেটারি শাহজাহান মৃধা বেনু, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক দিয়েই দুই দেশের মিল রয়েছে এমনটা নয়। বরং মানসিক দিক দিয়েও দুই দেশের জনগণ প্রায় সমান। আজকের এই সংস্কৃতি বিনিময় অনুষ্ঠান দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদূর করবে।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘কালচারাল চায়না স্প্লেনডিড সিচুয়ান’ নামে চীনের সিচুয়ান প্রদেশের পর্যটন এলাকার উপর নির্মিত একটি ডকুমেন্টরি প্রদর্শন করা হয়। এরপর উদ্বোধনী নৃত্য ‘হ্যাপিনেস’ নিয়ে মঞ্চে আসে একটি নারী দল। তাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয় দুই অ্যাক্রোবেটিয়ানের অ্যাক্রোবেটিক শো। পাণ্ডা প্লে প্রদর্শনীর সময় ছোট ছোট পাণ্ডা ছুড়ে মারা হয় দর্শকদের জন্য। পাণ্ডা কুড়িয়ে পাওয়াদের মুখে হাসি আর না পাওয়াদের হতাশার কাটাতে মঞ্চে আসে সিচুয়ান অপেরা স্ট্যান্ট। তারা প্রদর্শন করে ফেস চেঞ্জিং। একের পর এক মনোহর প্রদর্শনী শেষ হয় থিয়েটরিক্যাল ডান্সের মাধ্যমে।








