‘আমরা কেউ মাস্টার হতে চেয়েছিলাম/ কেউ ডাক্তার, কেউ উকিল/ অমলকান্তি সে-সব কিছু হতে চায়নি/ সে রোদ্দুর হতে চেয়েছিলো!’-‘অমলকান্তি’ কবিতাটি পড়েননি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আর এমন পাঠকপ্রিয়তা কবিতার স্রষ্ঠা যিনি সেই নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী নিজেই আজ রোদ্দুর হয়ে গেলেন!
মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটায় কলকাতার আর এন ঠাকুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ‘অমলকান্তি’র স্রষ্ঠা নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৯৪ বছর।
বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্ম নেয়া কবি ও গল্পকার নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। কলকাতার বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ি বেশ কিছু দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন তিনি। সম্প্রতি শরীর আরও খারাপ হতে শুরু করে। কয়েক দিন আগে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা, কিন্তু গতকাল(সোমবার) হঠাৎ করে হার্ট অ্যাটাক হয়। সেই ধাক্কা আর কাটিয়ে উঠতে পারেননি নীরেন্দ্রনাথ।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শ্বাসকষ্ট, হৃদপিন্ড ও কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন নীরেন্দ্রনাথ ৷ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটা নাগাদ শেষ নিশ্বাঃস ত্যাগ করেন কবি। তার মৃত্যুতে কলকাতা সহ বাংলাদেশের সাহিত্য জগতেও শোকের ছায়া।
নীরেন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন কবি শঙ্খ ঘোষ। একটি শোকবার্তায় তিনি জানিয়েছেন, জীবনের প্রায় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সৃষ্টিশীল থেকে গেছেন, এমন একজন স্রষ্টার জীবনাবসান সমস্ত বিচ্ছেদ বোধের মধ্যেও একটা সফলতার স্পর্ধা এনে দেয়। সহজ ভাষার টান টান চেতনার স্পর্ধিত সেই কবি চলে গেলেন আজ। তাঁকে আমাদের প্রণাম।
কলকাতার আরেক কবি সুবোধ সরকার ফেসবুকে লিখেছেন, কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী চলে গেলেন। আমি জীবনে দ্বিতীয়বার পিতৃহীন হলাম। এখনো আমরা আর এন টেগোর হাসপাতালে। ১২ -২৫ মিনিটে ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে আমরা তাঁর পায়ে হাত দিলাম। ডাক্তারি মতে এটাই আমাদের শেষ প্রণাম। আজ ২৫ শে ডিসেম্বর। বড়দিন। কী আশ্চর্য ‘কলকাতার যিশু’ আমাদের ছেড়ে এই দিনেই চলে গেলেন। বাংলা কবিতার একটা যুগ শেষ হয়ে গেল।
কবি নীরেন্দ্রনাথের মৃত্যুর খবরে সোশাল মিডিয়াতেও শোক প্রকাশ করতে দেখা গেছে কলকাতা ও বাংলাদেশের তরুণ কবি ও পাঠকদের। অনেকেই নীরেন্দ্রনাথের কোনো কবিতার একটি চরণ তুলে ধরে শোক প্রকাশ করছেন, আবার কেউ বা তাকে নিয়ে লিখছেন স্মৃতিকথা।
এদিকে কবির শেষকৃত্যানুষ্ঠান হবে (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার পর নিমতলা শ্মশানে, এমনটাই জানিয়েছে কবির পরিবার। সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য এদিন বিকেল সাড়ে ৪টে থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রবীন্দ্র সদনে রাখার পর মরদেহ বাংলা আকাদেমি হয়ে বাঙুর অ্যাভিনিউয়ে নীরেনবাবুর বাড়ি নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর সন্ধ্যে সাড়ে ৭টায় শেষকৃত্যের জন্য কবির দেহ নিয়ে যাওয়া হবে নিমতলা শ্মশানে।










