‘এশীয় চলচ্চিত্র উৎসব’ -এর পর্দা উন্মোচনের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে ৭ এশীয় নির্মাতার চলচ্চিত্র প্রদর্শনী। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয় ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট প্রথিতযশা ব্যক্তিরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমসিজে ফিল্ম ক্লাব প্রকাশিত স্যুভেনির ‘এশীয় চলচ্চিত্র পাঠ’-এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে চলবে দু’দিনব্যাপী এই চলচ্চিত্র উৎসব। উৎসবের বিশেষত্ব হচ্ছে ৩ ও ৪ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করেছে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের সংগঠন ‘এমসিজে ফিল্ম ক্লাব’।
প্রথমদিনে প্রদর্শিত হয় ‘হাউজ অফ ফ্লাইং ড্যাগার্স’ (চীন)-দুপুর ১:৩০, ‘থ্রি আয়রন’ (দক্ষিণ কোরিয়া) বিকাল ৪টা এবং ‘পিকে’ (ভারত) সন্ধ্যা ৬:৩০। আর মঙ্গলবার থাকছে ‘ইন দ্য মুড ফর লাভ’ (হংকং) সকাল ১১টা, ‘আ সেপারেশন’ (ইরান) দুপুর ১:৩০, ‘স্পিরিটেড অ্যাওয়ে’ (জাপান) বিকাল ৪টা এবং ‘রানওয়ে’ (বাংলাদেশ) ৬:৩০ এ।
প্রদর্শনী শুরুর আগে টিএসসি থেকে টিকেট সংগ্রহ করা যাবে। প্রদর্শনী সবার জন্য উন্মুক্ত এবং টিকেটের মূল্য ২০ টাকা।
সোমবার উৎসবের প্রথম দিনে সকাল ১১ টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালী সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ‘মিষ্টি মেয়ে’খ্যাত সারাহ বেগম কবরী। আরও উপস্থিত ছিলেন স্বনামধন্য চলচ্চিত্র পরিচালক মোরশেদুল ইসলাম এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, “মনের সংকীর্ণতা দূর করতে এবং মানব সভ্যতাকে বাঁচিয়ে রাখতে চলচ্চিত্র সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখে।” পাশাপাশি যেকোনো ধরণের উগ্রতা ও জঙ্গিবাদ দূরীকরণে সাংস্কৃতিক চর্চা বৃদ্ধিতে তিনি জোর দেন।
সারাহ বেগম কবরীর বক্তব্যের একটা অংশ জুড়ে তার অভিনয় জীবনের পাশাপাশি উঠে এসেছে চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে তার ব্যক্তিগত কিছু অভিজ্ঞতার কথা। এসবের পাশাপাশি কন্ঠে ছিলো চলচ্চিত্র শিল্প নিয়ে ফুটে উঠে কিছু আক্ষেপ । চলচ্চিত্রের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অধিক মনযোগ ও পৃষ্ঠপোষকতা কামনা করেন। একই সাথে চলচ্চিত্র উৎসবের এমন একটি উদ্যোগকে তিনি সাধুবাদ জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র ও চিত্রনায়ক ফেরদৌসের বক্তব্যে এই বিভাগের প্রতি তার স্মৃতিকাতরতা স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। তিনি বিভাগের ছাত্রদের মাঝে চলচ্চিত্র অনুরাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং কার্যদিবসের একটি স্লটে ছাত্র-শিক্ষকদের একসাথে চলচ্চিত্র দেখার দাবিতে ছাত্রদের সাথে একমত পোষণ করেন। দর্শকদের হলমুখী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।
নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী চলচ্চিত্র নির্মাণে মৌলিকত্ব নিয়ে আলোচনা করেন এবং কোন বিশেষ ফর্মুলা অনুকরণে ছবি নির্মাণে নিরুৎসাহিত করেন। পাশাপাশি তরুণ নির্মাতাদের স্বকীয়তা বিনির্মাণে বিশেষভাবে জোর দিতে বলেন। দেশীয় নির্মাতাদের যেকোনো ধরণের প্রতিকূলতা মোকাবেলায় দৃঢ়চিত্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।








