২০২১-২২ সালে খাইবার পাখতুনখোয়া সরকার ঐতিহ্যশালী বাড়ি দু’টি কেনার জন্য ২.৩৫ কোটি পাকিস্তানি রুপি বরাদ্দ করেছিল, যেগুলো ছিল প্রয়াত জনপ্রিয় দুই তারকা রাজ কাপুর ও দিলীপ কুমারের বাড়ি। নির্দেশ ছিল, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ যেন এই বাড়ি দু’টিকে জাদুঘরে রূপান্তরিত করে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রাদেশিক সরকার ঐতিহাসিক ভবনগুলোর পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের জন্য ৩৩.৮ মিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি অনুমোদন করে। তার পরেও অযত্নে ভগ্নপ্রায় রাজ কাপুর, দিলীপ কুমারের পেশোয়ারের পৈতৃক বাড়ি! যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মনখারাপের কারণ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে সরকারের তরফ থেকে ঐতিহাসিক বাড়ি দু’টির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোন পদক্ষেপ করা হয়নি। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বক্তব্য অনুযায়ী, অযত্নের ফলে ঝড়-বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এমনিতেই নষ্ট হয়ে গিয়েছে দু’টি বাড়ির কাঠামো।
সাম্প্রতিক ভূমিকম্প আরও নড়বড়ে করে দিয়েছে বাড়ি দু’টিকে। যার ফলে, যে কোন সময়েই ভেঙে পড়তে পারে দিলীপ কুমার এবং রাজ কাপুরের পৈতৃক বাড়ি। তাদের মতে এখনও সরকার অবহেলা করলে আগামী কিছু দিনের মধ্যেই হয়তো মাটিতে মিশে যাবে এই দু’টি ঐতিহাসিক নিদর্শন। প্রসঙ্গত, উত্তর-পশ্চিম খাইবার পাখতুনখোয়ায় অবস্থিত এই বাড়ি দু’টিকে ২০১৬ সালে ‘জাতীয় ঐতিহ্য’ বলে ঘোষণা করেছিল পাকিস্তান সরকার।
তারপরেও কেন অযত্নে নষ্ট হয়ে যেতে বসেছে বাড়ি দু’টি? সরকারি তরফ থেকে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, সংরক্ষণের জন্য অনুদানের অনুমোদন থাকলেও সেই টাকা হাতে আসেনি। ফলে, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও গরজ দেখায়নি। অযত্ন, ঝড়-বৃষ্টির দাপট, বাড়ির আনাচকানাচে গজিয়ে ওঠা আগাছা, জমে থাকা জঞ্জাল ক্রমশ গ্রাস করেছে বাড়ি দু’টিকে। অথচ একটা সময়ে এই বাড়ি দু’টিতে প্রাণের স্পন্দন ছিল!
পেশোয়ারের খাওয়ানি বাজারে রাজ কাপুরের ঠাকুরদা দেওয়ান বিশ্বেশ্বরনাথ কাপুর ১৯১৮ সালে বাড়িটি বানিয়েছিলেন। রাজ এবং তার কাকা ত্রিলোক কাপুরের জন্ম এই বাড়িতেই। লোকলস্করে একটা সময়ে গমগম করত এই বাড়ি। একই ভাবে মহল্লা খুদাদত অঞ্চলে ‘পেশোয়ারি’ আদলে তৈরি দিলীপ কুমারের পৈতৃক ভিটে। সব রকম উৎসব-অনুষ্ঠান পালিত হত এই বাড়িতে। লোকের আনাগোনায় মুখর থাকত ‘হাভেলি’র আনাচকানাচ, এমনটাই জানিয়েছেন, স্থানীয় বর্ষীয়ান বাসিন্দারা।








