ভারতের আন্ধ্র প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে নতুন আর্থিক প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন। এক সময় পরিবার পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নেওয়া এই নেতা এবার জানিয়েছেন, তৃতীয় সন্তানের জন্ম হলে পরিবারকে ৩০ হাজার রুপি এবং চতুর্থ সন্তানের ক্ষেত্রে ৪০ হাজার রুপি দেওয়া হবে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা ও বিতর্ক। বিরোধী দলগুলো এটিকে কেন্দ্রের লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় পর্যায়ে যখন পরিবার পরিকল্পনা নীতির অভাব রয়েছে, তখন এমন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো।
শনিবার (১৬ মে) শ্রীকাকুলাম জেলার নরসান্নাপেটায় এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চন্দ্রবাবু নাইডু বলেন, আমি বহুবার এ বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি। আগে আমি পরিবার পরিকল্পনার পক্ষে কাজ করেছি। কিন্তু আজ আবারও শিশু আমাদের সম্পদ। তাদের জন্য কাজ করার প্রয়োজন তৈরি হয়েছে।

তেলুগু দেশম পার্টি-এর প্রধান নাইডু দীর্ঘদিন ধরেই জন্মহার হ্রাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশের ভুল যেন ভারত না করে।
তার মতে, আয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক দম্পতি একটি সন্তানে সীমাবদ্ধ থাকছেন, আবার কেউ কেউ প্রথম সন্তান কন্যা হলে দ্বিতীয় সন্তানের পরিকল্পনা করছেন। তিনি বলেন, জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে মোট প্রজনন হার (টিএফআর) ২ দশমিক ১ বজায় রাখা জরুরি।
এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
অন্যদিকে কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র আলোক শর্মা বলেন, গত ১২ বছরে দেশে পরিবার পরিকল্পনা বা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো সুস্পষ্ট জাতীয় নীতি নেই। তাঁর অভিযোগ, লোকসভা আসন বাড়ানোর আলোচনা চলছে এবং দক্ষিণ ভারতে এই বার্তা গেছে যে জনসংখ্যা কম হলে ভবিষ্যতে আসনও কমে যাবে।
তিনি কেন্দ্রীয় সরকারকে প্রশ্ন করেন, কেন পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে জাতীয় নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে না।
আন্ধ্র প্রদেশের বিরোধী দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস-এর জাতীয় মুখপাত্র কার্তিক ইয়েল্লাপ্রগাদা এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি বলে আখ্যা দেন।
তিনি বলেন, এটি টিডিপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরানোর একটি প্রচেষ্টা। তাঁর অভিযোগ, সরকার এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ, অথচ নতুন নতুন ঘোষণা করছে যার কোনো আর্থিক ভিত্তি নেই।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কল্যাণমূলক প্রকল্প শক্তিশালী করা এবং জনগণের আস্থা পুনর্গঠন এসবের পরিবর্তে মুখ্যমন্ত্রী এখন নাটকীয় ঘোষণা করছেন, যার কোনো জবাবদিহি নেই।
চন্দ্রবাবু নাইডু দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের জনসংখ্যা হ্রাসের প্রবণতা নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। তার মতে, সঠিক জনসংখ্যা ভারসাম্য না থাকলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভারসাম্যেও প্রভাব পড়তে পারে।








