নায়করাজ রাজ্জাক আর নেই, তা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না তার কাছের মানুষজন। ব্যক্তি মানুষটি এখন আর নেই, তবে তার নানা স্মৃতি, নানা গল্প এখন তাদের নিত্য সঙ্গী। এসব স্মৃতি বেদনার, সেসব গল্প এখন কষ্টের রঙে রাঙানো। সেসব হাহাকারের গল্প চ্যানেল আই অনলাইনকে শোনালেন নায়করাজের ব্যক্তিগত সহকারি বাবলু। বললেন,
স্যার যেদিন মারা গেলেন, সেদিন আমি উত্তরার রাজলক্ষ্মী অফিসে কাজ করছিলাম। হঠাৎ সম্রাট ভাইয়ার ফোন, তাড়াতাড়ি ইউনাইটেড হাসপাতালে যেতে হবে। দেরি না করে ট্যাক্সিতে উঠে পড়ি। খুব টেনশন করছিলাম। মনে মনে নানা শঙ্কা কাজ করছিল। ওই সময় ড্রাইভারকে বললাম রেডিও চালাতে। ড্রাইভার রেডিও ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুনলাম স্যারের ছবির গান বাজছে ‘নীল আকাশের নিচে’। আমার বুক ধরফর করে উঠল। গান থামতেই উপস্থাপক বললো, স্যার আর নেই। নিজের কানকেও তখন বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। ট্যাক্সিতে বসেই ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছিলাম। ড্রাইভার আড়চোখে বারবার আমার দিকে তাকাচ্ছিল।
স্যার খুব ভালো মানুষ ছিলেন। ১০ বছর ধরে তার সঙ্গে কাজ করছি। কখনো তাকে খারাপ ব্যবহার করতে দেখিনি। কখনো ভুল হলে হালকা ঝাড়ি দিতেন। একটু পরই আবার কাছে ডাকতেন। আদর করতেন। খুব বেশি ভুল করলে কখনোই বকা দিতেন না। বড়জোর ছাগল বলতেন, বা বলতেন এই ব্যাটা এটা কি করেছিস-এই বলে ঝাড়ি দিতেন।
তিনি আমাকেও তার ছেলের মতোই দেখতেন। যখন তখন বিপদে আপদে সাহায্য করতেন। আমার বাড়ির খোঁজখবর নিতেন। বাইরে কোথাও গেলে সবসময় আমাকে সঙ্গে নিতেন। মাছধরা তার শখ ছিল। তিনি পূবাইলে বা বাইরে কোথাও গেলে মাঝে মাঝে মাছ ধরতেন। তখন আমাকে মাছ ধরার বড়শি এনে দেওয়ার জন্য তাৎক্ষণিক অর্ডার করতেন।
শেষ দুই বছর ওনাকে নিয়ে হাসপাতালে দৌঁড়াতে হয়েছে বেশি। হাসপাতালে রাতে আমি তার সঙ্গে থাকতাম। যখন কিছুটা সুস্থ বোধ করতেন, তখন আমার সঙ্গে গল্প করতেন, আমার খোঁজখবর নিতেন। মাঝে মাঝে হাই পাওয়ারের অসুধ খেলে তিনি প্রলাপ বকতেন। কখনো কখনো রাত ৩-৪টার দিকে ঘুমের মাঝে তিনি কথা বলেতেন। ঘুমের ভেতরেও তিনি শুটিংয়ে যাওয়ার কথা বলতেন। আমাকে উদ্দেশ্য করে বলতেন-এই আমার সবকিছু রেডি করে দে আমি শুটিংয়ে যাব, গাড়ি বের করতে বল। এমনই শুটিং-পাগল ছিলেন তিনি।
লেখা: সুদীপ্ত সাঈদ








