শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শিশুতোষ এক ভুলে দলকে হারিয়েছিলেন। প্রীতি ম্যাচ হলেও শহিদুল আলম সোহেলের সেই ভুল ক্ষমা করে দেয়নি বাংলাদেশের সমর্থকরা। সেই সোহেল প্রায় একই ভুল করলেন আবারও। এবার তার ‘পিচ্ছিল’ গ্লাভস গলে নেপালের বল জড়ালো জালে। সঙ্গে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সাফ স্বপ্নের সমাধি হল।
ভুটান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ার পরও নেপালের বিপক্ষে ২-০ গোলের হারে গোল ব্যবধানে সাফ সুজুকি কাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিলো স্বাগতিক বাংলাদেশ। সমান ৬ পয়েন্ট হলেও নেপালের থেকে দুই ও পাকিস্তানের চেয়ে এক গোলে পিছিয়ে থাকাই সর্বনাশ হয়েছে স্বাগতিকদের। গ্রুপ ‘এ’ থেকে সেরা হয়ে সেমিতে নেপাল আর পাকিস্তান হয়েছে রানার্সআপ।
ম্যাচের ফলাফল অবশ্য বোঝাতে পারবে না কতটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচে হারা চলবে না। এমন সমীকরণে নেপালিদের উপর চড়াও হয়ে খেলেছে স্বাগতিকরা। ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিট পর্যন্ত বলের ৭০ শতাংশ দখলও ছিল লাল-সবুজদের পায়ে। কিন্তু এরপরও গোলরক্ষক শহিদুল আলমের সেই ভুলই জামাল ভুঁইয়াদের ছিটকে দেয় ম্যাচ থেকে।
৩৩ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে ৩০ গজ দূরে ফ্রি-কিক পায় নেপাল। স্পটকিক থেকে স্বাগতিক বার বরাবর শট নেন বিমল ঘাটরি মাগার। জায়গায় দাঁড়িয়ে নেপালি জার্সি নাম্বার ১০’র নেয়া শট শহিদুলের হাত ফসকে জালে জড়ালে থমকে যায় হাজার হাজার দর্শকের কোলাহল।
গোল শোধে মরিয়া বাংলাদেশ এরপর ক্রমেই চড়াও হয়েছে নেপাল রক্ষণে। মাঠের বাইরে থেকে দর্শকরাও সমানতালে যুগিয়ে গেছেন সমর্থন। কিন্তু স্বাগতিক চাপ সামলে নিজেদের রক্ষণ দুর্গে ফাটল ধরতে দেয়নি নেপালিরা।
বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা আক্রমণে উঠেছেন ঠিকই, কিন্তু বলে শটে নিতে পারেননি জায়গামত। ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেয়া শটগুলোতে ছিলো না প্রয়োজনীয় জোর। এরপর যত সময় গড়িয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের মনে হয়েছে দিশেহারা নাবিকের মতো। সেই সুযোগে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের শেষ সময়ে ডানপায়ের জোরালো এক শটে স্বাগতিকদের কফিনে শেষ পেরেক ঠোকেন নায়ুগ শ্রেষ্ঠা!










