প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা প্রকাশ্যে মানুষ হত্যা করে কিছু করতে পারেনি তারাই গুপ্ত হত্যার পথ বেছে নিয়েছে। দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঘটনা দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী, রাজধানীর কলাবাগানে দুই যুবক, আওয়ামী লীগ নেতাসহ সম্প্রতি একের পর ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলোর ধরণ একই রকম যা সরকারের ভেতরেও ভাবিয়ে তুলেছে। ফাস্ট ট্র্যাক প্রোজেক্ট মনিটরিং কমিটির ৪র্থ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক এসব হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে গুপ্ত হত্যাগুলো করা হচ্ছে এবং তা করা হচ্ছে প্রত্যেকটি সেক্টর থেকে। এর উদ্দেশ্য দেশটিকে একটি অস্থিতিশীল অবস্থার দিকে নিয়ে যাওয়া। ‘খুব স্বাভাবিকভাবেই, যারা একসময় প্রকাশ্যে আন্দোলনের নামে ডাক দিয়ে, আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে, তারা যখন দেখলো এভাবে সরকার উৎখাত করা যাচ্ছে না, তাদেরই মদদ আছে এই গুপ্ত হত্যায়। তারা প্রকাশ্য আন্দোলন করে শত শত মানুষ মেরেও যখন কিছু করতে পারেনি, তখন তারাই গুপ্ত হত্যার পথ বেছে নিয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়িতে ঢুকে দু’জন বাংলাদেশী হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েও ওই হত্যারও বিচার চান প্রধানমন্ত্রী। সতর্ক থাকতে বলেন এদেশের মানুষকে। তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ড যারা ঘটায়, তারা কোনো ধর্মেও বিশ্বাস করে না। তারা ‘খুনি’ হিসেবেই খুন করে। খুন করাটাই তাদের কাজ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামের নাম নিয়েও যদি খুন করা হয়, তবে আমার প্রশ্ন হলো, তারা তো আসরের নামাযও পড়তে গেলো না, মাগরিবের নামাযও পড়তে গেলো না। তারা গেলো খুন করতে। তাহলে তারা এটা কোন ধরণের ইসলাম রক্ষা করলো? ইসলামে তো এভাবে হত্যার কথা বলা নেই।’
সভায় সরকারের নেয়া দশটি ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেয়া হয়।










