গাজীপুর বারে বোমা হামলায় জেএমবির ৬ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া অন্য চার আসামীর মধ্যে দুইজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি দুইজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
এসব আসামীদের ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বহাল থাকা জেএমবি সদস্য হলেন, এনায়েত উল্লাহ ওরফে ওয়ালিদ ওরফে
জুয়েল, আরিফুর রহমান ওরফে আকাশ ওরফে হাসিব, সাইদুর মুন্সী ওরফে শহীদুল মুন্সী ওরফে ইমন ওরফে পলাশ, আবদুল্লাহ
আল সোহাইন ওরফে যায়িদ ওরফে আকাশ, নিজাম উদ্দিন রেজা ওরফে রনি ওরফে কচি ও
তৈয়বুর রহমান ওরফে হাসান।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, যাদের সাজা কমানো হয়েছে এবং খালাস দেওয়া হয়েছে; তাদের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।
গত ১৩ জুলাই হাইকোর্টে এ মামলার শুনানি শুরু হয়। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবীর ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শহীদুল ইসলাম খান। আসামীপক্ষে ছিলেন দেলোয়ার হোসেন, আফজাল এইচ খান ও মো. হেলাল উদ্দিন মোল্লা।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর গাজীপুর অ্যাডভোকেট বার সমিতির দুই নম্বর হলে শক্তিশালী দুটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আইনজীবীদের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যে ওই হামলায় আত্মঘাতী জেএমবি সদস্য আজাদ ওরফে জিয়া ওরফে নাজির ওরফে নাহিদ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান গাজীপুর বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন; আইনজীবী নুরুল হুদা, আনোয়ারুল আজম ও গোলাম ফারুক এবং চার বিচারপ্রার্থী।
এ ঘটনায় জেএমবি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও আতাউর রহমান সানী, আত্মঘাতী হামলাকারী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. আলমগীর হোসেন।
তদন্ত শেষে ২০০৭ সালের ৪ জুলাই পুলিশ ১৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তবে জেএমবি নেতা শায়খ আব্দুর রহমান, আতাউর রহমান সানি ও খালেদা সাইফুল্লাহর অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় এবং হামলাকারী আজাদ ও তার সহযোগী জেএমবি সদস্য মোল্লা ওমর ওরফে শাকিলের মৃত্যু হওয়ায় তাদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
এরপর আরো আট আসামীর বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি আলাদাভাবে সংশোধিত চার্জ গঠন হয়। আলোচিত এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৭০ জন এবং আসামীপক্ষে তিনজনের সাক্ষ্য নেন আদালত।
শুনানি শেষে ২০১৩ সালের ২০ জুন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মো. মোতাহার হোসেন যে রায় ঘোষণা করেন, তাতে দশ আসামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
ওই ৬ আসামী ছাড়া অন্য চার জন হলেন, মো. আশরাফুল ইসলাম ওরফে আরসাদ ওরফে আব্বাস খান, মো. সফিউল্লাহ ওরফে তারেক ওরফে আবুল কালাম ও আদনান সামী ওরফে আম্মার ওরফে জাহাঙ্গীর।








