বাংলাদেশের গাজীপুর জেলায় রয়েছে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান। বিপন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী সংরক্ষণে এই উদ্যান গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। দর্শনার্থীদের চিত্তবিনোদনের পাশাপাশি এখানে জীববিজ্ঞানের নানা ধরণের গবেষণার দ্বারও উন্মোচিত হয়েছে।
বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বনভূমি শালবন। ভাওয়াল বনভূমিকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয় ১৯৮২ সালে। এই বনের প্রতিবেশ ব্যবস্থা আমাদের দেশের অন্যান্য বনের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। মূলত শাল গাছকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এখানকার প্রতিবেশ ব্যবস্থা।
শাল ছাড়াও এ উদ্যানে জারুল, কড়ই, অর্জুন, সর্পগন্ধা, শিমুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ দেখা যায়। এখানে প্রচর পরিমানে বীরুৎ গুল্ম ও নানা প্রজাতির অর্কিড জন্মে।
উদ্যানের এই উদ্ভিদগুলোর আশ্রয়েই বেঁচে আছে অনেক বন্যপ্রাণী। বানর, কাঠবিড়ালী, সজারু, হরিণসহ নানা ধরণের স্তন্যপায়ী প্রাণীর আবাসস্থল এই উদ্যান। এদের পাশপাশি হরবোলা, বসন্তবাউড়ি, শ্যামা, সুইচোরা, টিয়া ইত্যাদি পাখির বিচরণ এই বনে।
অতীতে এই বনভূমি উজাড়, বনের ভিতর কৃষিজমি তৈরি, বন্যপ্রাণী শিকার প্রভৃতি এই উদ্যানকে করেছে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত।
তবে বর্তমান সরকার ও স্থানীয় অধিবাসীদের যৌথ উদ্যোগ বনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করছে।
এসব সংরক্ষণ কার্যক্রমগুলো আরও যুগোপযোগী করার পাশাপাশি প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। তবেই ফিরিয়ে আনা সম্ভব ঐতিহ্যবাহী শালবনের হারানো গৌরব।






