ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া সকল পূর্বাভাসের সম্পূর্ণ বিপরীত। অধিকাংশ গণমাধ্যম, জনমত জরিপ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা যে হিলারিকেই হোয়াইট হাউসের পথে দেখছিলেন তা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সকল বিতর্ক এবং সব সংশয়কে পেছনে ফেলে ট্রাম্পের জয়কে একটা তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে নিয়ছে মার্কিন গণমাধ্যম।
তারা এখন বুঝতে পারছে এবং বলছে, দেশের মানুষের ক্ষোভের গভীরতা অনুধাবনে ব্যর্থতা, পলিটিকাল-মিডিয়া এস্টাবলিশমেন্ট বা রাজনীতির ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের কোন কিছু প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া বা চাপিয়ে দেওয়াটা পুরোপুরি নেতিবাচক প্রবণতা। আজকের ঘটনার পরে নিঃসন্দেহে এই এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে আমেরিকান জনমত আরো প্রবল হবে বলেই তারা মনে করছে।
মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন মানি’তে ডিলান বাইয়ার্সের লেখা একটি প্রতিবেদনে ট্রাম্পের বিজয় গণমাধ্যমের কিছু চাপিয়ে দেওয়ার প্রবণতার বিরুদ্ধে জনগণের অবস্থান হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, গ্রামীণ এলাকার শ্বেতাঙ্গরাই ট্রাম্পের জয় এনে দেবে বলে কিছু কথিত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞের প্রত্যাশাই অবশেষে সত্যি হয়েছে।
মার্কিন গণমাধ্যমের এমন চরম ভুলের কথা এবং তাদের প্রতি বিশ্বাসের ঘাটতির কথা উঠে আসে প্রতিবেদনে। নির্বাচনের তিন দিন আগেও কয়েকটি গণমাধ্যম ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাব্যতার হার এতোটাই নিম্ন দেখায় যা তাদের বাস্তব বিচ্ছিন্নতারই পরিচায়ক। যেমন, হাফিংটন পোস্টের (২ শতাংশ), দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের (১৫ শতাংশ) ইঙ্গিতের পর আজকের ফল রীতিমতো বিস্ময়কর। তবে ওই সময়টাতে রাজনৈতিক পরিসংখ্যানবিদ ন্যাটে সিলভার ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা দেখেন ৩৫ শতাংশ এবং ইউএসসি/লস এ্যাঞ্জেলস টাইমস ট্রাম্পের সমর্থন বাড়ার একটি চিত্র দিয়েছিলে।
মার্কিন গণমাধ্যম এখন বলছে, শ্বেতাঙ্গ ট্রাম্প সমর্থকরা কতটা প্রভাব রাখতে পারে তা বুঝতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে গণমাধ্যম। তাছাড়া তারা হিলারির পক্ষে হিস্পানিক এবং আফ্রিকান-আমেরিকানদের ভোটকে অতিমূল্যায়িত করেছেন।
‘নিজ দেশের সঙ্গে গণমাধ্যমগুলো অনেকটাই সম্পর্কহীন হয়ে গেছে,’ বলে মনে করেন প্রোপাবলিকার রাজনীতিবিষয়ক ঝানু সাংবাদিক এ্যালেস ম্যাকগিলিস। তিনি বলেন, ‘এই ব্যবধানটা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। সব গণমাধ্যম এখন ওয়াশিংটন ডি.সি. এবং নিউ ইয়র্কভিত্তিক হয়ে পড়েছে। তাদের জায়গায় প্রভাব বেড়েছে স্থানীয় ও মেট্রো পত্রিকাগুলোর। এই শহরগুলো এবং অবশিষ্ট দেশের ভাবনার মধ্যে ব্যবধানটা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।’
আজকের নির্বাচন বিষয়ে এমন ভুল ইঙ্গিত দেয়ায় অনেকেই তাদের তিক্ততা ঝাড়েন। ‘রাজনীতিতে ৩০ বছর ধরে তথ্যের উপর আমার বিশ্বাস ছিল এবং আজ রাতে তথ্য মারা গেছে,’ বলে টুইট করেছেন অভিজ্ঞ রিপাবলিকান স্ট্র্যাটেজিস্ট মারফি। ‘এই নির্বাচন নিয়ে আমি এর চেয়ে বেশি ভুল করতে পারতাম না।’
ডেমোক্র্যাটিক দলের পলিটিকাল স্ট্র্যাটেজিস্ট এবং ২০০৮ সালে বারাক ওবামার নির্বাচনী প্রচারণা দলের ম্যানেজার ডেভিড প্লোফি বলেন, ‘কোন বিষয়ে এতোটা ভুল জীবনে কখনো হয়নি। তবে আজকের দিনের তিক্ততার প্রয়োজন ছিল।
১৯৪৮ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনের পর একটি কুখ্যাত ভুল শিরোনাম ‘ডেউই ডিফিটস ট্রুমান’এর উল্লেখ করে ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ল্যারি স্যাবাতো বলেন, আজকেরটাও এরই ধারাবাহিকতা।








