নিজেদের ধীরে ধীরে উন্মুক্ত করতে শুরু করছে মিয়ানমার, আর তাই এর অর্থনীতির পালে লাগতে শুরু করেছে পরিবর্তনের হাওয়া। এর মধ্যে প্রতিবেশী এই দেশটিতে তৈরি হয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা। পরিকল্পনা নিয়ে সম্ভাবনার এ সুযোগ কাজে লাগালে লাভবান হবে বাংলাদেশ।
১৯৬২ সালে মিয়ানমার ছিল এশিয়ার সবচেয়ে ধনী দেশ। কিন্তু এখন এশিয়ার দরিদ্র একটি দেশের নাম মিয়ানমার। সম্প্রতি অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটি গণতান্ত্রিক পথে যাত্রা শুরু করেছে। আর এর মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে বিপুল আমদানী-রপ্তানী বাণিজ্যের সুযোগ তৈরী হয়েছে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের জন্য। সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বিনিযোগেরও।
ইতোমধ্যে বাংলাদেশীরা সে সুযোগ কাজে সুযোগ লাগাতে শুরু করেছেন। বে লাইন শিপিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোমর উদ্দিন আহমেদ বলেন, আঠারো বছর ধরে এখানে রয়েছি আমি কোনো প্রতিবন্ধকতা অনুভব করিনি। বরং এখানকার মানুষ ও সরকার আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।
২০১৪-১৫ অর্থবছরে মিয়ানমারে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ হয়েছে আট বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আছে বাংলাদেশীদের বিনিয়োগও। বাংলাদেশ থেকে রপ্তানী হচ্ছে ঔষধ, সিমেন্ট, সিআই শিট ও ক্লেরের মতো পন্যও।
মিয়ানমারে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালের কান্ট্রি ম্যানেজার রাকিব নাজির বলেন, এখানে ব্যাপক পরিমাণে ওষুধের ব্যবসা তৈরি হয়েছে। আরো বৃদ্ধি পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।
সপ্তাহে ৬ দিন ঢাকা থেকে সরাসরি ইয়াংগুন চলাচল করছে বাংলাদেশের সরকারি-বেসরকারি এয়ারলাইন্সও।
বেসরকারি এয়ারলাইন্স নভো এয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, শুধু যোগাযোগ ক্ষেত্রেই নয়, পর্যটন ক্ষেত্রেও যদি চাহিদার সৃষ্টি হয় তবে অতিরিক্ত আরো ফ্লাইট বাড়ানো হবে। বর্তমানে আমাদের তিনটি ফ্লাইট চালু রয়েছে।
ঝকঝকে-তকতকে পরিচ্ছন্ন এক শহর ইয়াংগুন। সুশৃংখল চলাচলে নিরাপদ এই শহরে আছে দর্শনীয় ঐতিহাসিক অনেক কিছু। কেনাকাটাও করা যায় সাধ্যের মধ্যে। তাইতো দেশটিতে ঢল নেমেছে বিদেশী পর্যটকদের।
বিদেশী পর্যটকরা বলছেন পর্যটনের দিক দিয়ে মিয়ানমার অনেক এগিয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থাপনা মন্দির প্যাগোডা দেখে তারা খুব মুগ্ধ।
দুই দেশের মধ্যে সব দিক দিয়েই সহযোগিতা ও যোগাযোগ বাড়ানো পারস্পারিক স্বার্থে খুবই জরুরী।






