খুলনা ছাড়া বাংলাদেশের ক্রিকেট অচল! এ কথা দিনের আলোর মতই সত্যি। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের ক্রিকেটেও খুলনা বিভাগের একচ্ছত্র আধিপত্য। এই অঞ্চল থেকেই উঠে আসেন জাতীয় দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার। সেই সুনামই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৫ মার্চ শুরু হতে যাওয়া জাতীয় লিগে খুলনার মেয়েরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছেন আট বিভাগে। তাতে পারফর্মার সংকটে পড়েছে এই বিভাগের দলটি।
দেশের ৪০ নারী ক্রিকেটারকে পুলের আওতায় এনে ভাগ করে দেয়া হয়েছে আটটি বিভাগে। প্রতিটি বিভাগ পেয়েছে পাঁচজন করে ক্রিকেটার। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে খুলনার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন কেবল রুমানা আহমেদ। খুলনার মেয়ে হয়েও অন্য বিভাগের হয়ে খেলবেন জাহানারা, সালমা, শারমিন, লতা, ফাহিমা, জ্যোতি, পান্না, শামীমার মতো শীর্ষ ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলে খেলেননি অথচ সম্ভাবনাময়, খুলনার এমন বেশকিছু ক্রিকেটারকেও পুলের আওতায় এনে ভাগ করে দেয়া হয়েছে অন্য বিভাগে।
বিসিবির এমন সিদ্ধান্তের তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন খুলনা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোর্ত্তজা রশিদী দারা। চ্যানেল আই অনলাইনকে বললেন, ‘এটা আমরা মেনে নেইনি। বিসিবি আমাদের খেলোয়াড় তালিকা পাঠানোর পরই ওমেন্স ক্রিকেটের সেক্রেটারির কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছি। ওমেন্স উইং চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি। ফোন দিয়ে মৌখিক প্রতিবাদ জানিয়েছি। গত বছরও সালমা-জাহানারাসহ অনেক খেলোয়াড় অন্য বিভাগে খেলিয়েছে। গত বছর শর্ত দিয়ে আমরা মেনে নিয়েছিলাম। বলেছিলাম, আমাদের খেলোয়াড়দের উপর হাত দিয়েন না। আমি মনে করি এটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও খামখেয়ালি।’
‘এক বিভাগের ক্রিকেটার অন্য বিভাগে খেলবে, তাহলে এটার নাম জাতীয় লিগ কেন? অন্য কোন নামে তো চালাতে পারে। জাতীয় লিগ মানে আমাদের বিভাগের খেলোয়াড় আমাদের দলের হয়েই খেলবে। আমরাদের খেলোয়াড়দের উপর হাত দিয়েছে, কিন্তু রাজশাহীর খেলোয়াড়দের ঠিকই তাদের দলে খেলতে দিচ্ছে। যদি জোর করে মানাতে চায় তাহলে সেটা দেশের ক্রিকেটের জন্য ভাল হবে না।’ অভিযোগের বিষয়টি এভাবেই তুলে ধরলেন খুলনার প্রবীণ এ ক্রীড়া সংগঠক।
বিষয়টি নিয়ে খুলনার বিভাগীয় কোচ ইমতিয়াজ হোসেন পিলু বললেন, ‘এমন হলে কোন কোচ তো ক্রিকেটার তৈরি করতে চাইবে না। ক্রিকেটার তৈরি করছি, তারা জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করলে ভাল লাগে, গর্ব হয়। কিন্তু ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় যখন আমার গড়া ক্রিকেটার আমার বিপক্ষেই খেলবে সেটা হতাশার। এমন হয়েছে, স্কোয়াড গঠন করতেই এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে। অন্য কোন বিভাগকে সুবিধা দিতেই হয়ত এটা করা হচ্ছে।’
ওমেন্স উইংয়ের নতুন চেয়ারম্যান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল অবশ্য অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুললেন না, ‘আমরা আনুষ্ঠানিক কোন অভিযোগের কথা শুনিনি। আসলে খেলা প্রতিযোগিতামূলক করার জন্যই এমনটি করা হয়েছে। রোববার সবগুলো বিভাগীয় দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে আমরা বসবো। যদি তারা মেনে না নেন, তাহলে দ্বি-স্তরে যেতে পারি। প্রথম স্তরে সেরা চার দল আর পরের স্তরে চারটি দল। সেটিও আমাদের ভাবনায় আছে।’
এবারের জাতীয় লিগ হবে টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে। জুলাইয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের দল টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলতে যাবে নেদারল্যান্ডসে। তার প্রস্তুতি হিসেবে ওয়ানডের জায়গায় এবার টি-টুয়েন্টি লিগ। প্রতিটি দল একবার করে অপর দলের সঙ্গে খেলবে। সব ম্যাচই হবে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। গতবার টুর্নামেন্টের আদলে হয়েছিল ওয়ানডে ফরম্যাটের জাতীয় লিগ। চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল খুলনা বিভাগ।
পুলের ক্রিকেটাররা কে কোন দলে
রাজশাহী: খাদিজাতুল কুবরা (অধিনায়ক), পান্না ঘোষ, লতা মন্ডল, শারমিন সুলতানা, জিন্নাত অর্থি (উইকেটরক্ষক)।
সিলেট: জাহানারা আলম (অধিনায়ক), শায়লা শারমিন, মোর্শেদা খাতুন হ্যাপি, জান্নাতুল ফেরদৌস, ফারজানা আক্তার ববি।
খুলনা: রুমানা আহমেদ (অধিনায়ক), আয়শা রহমান শুকতারা, বৈশাখী, সুলতানা খাতুন, রুপা রায়।
ঢাকা: সালমা খাতুন (অধিনায়ক), তাজিহা আক্তার, শামীমা সুলতানা, লিলি রানী বিশ্বাস, সোহেলী আক্তার।
রংপুর: সানজিদা ইসলাম (অধিনায়ক), নুসহাত তাসনিয়া, সোবহানা মোস্তারি, শারমিন আক্তার সুপ্তা, তাহিন তাহিরা।
চট্টগ্রাম: ফাহিমা খাতুন, আয়শা আক্তার, তিথি রানি সরকার, ফারজানা আক্তার লিসা, সুরাইয়া আজমিন ছন্দা।
ময়মনসিংহ: নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), রিতু মনি, ইসমা তানজিম, লাবনী আক্তার, শরিফা খাতুন।
বরিশাল: ফারজানা হক পিংকি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার, রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক, হ্যাপি আলম, ইভি রহমান।
মেয়েদের জাতীয় লিগের রোল অব অনার
২০১৭ সাল: চ্যাম্পিয়ন খুলনা
২০১৬ সাল: চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী
২০১৫ সাল: চ্যাম্পিয়ন রংপুর
২০১৪ সাল: চ্যাম্পিয়ন খুলনা
২০১৩ সাল: চ্যাম্পিয়ন খুলনা
২০১২ সাল: চ্যাম্পিয়ন খুলনা
২০১১ সাল: চ্যাম্পিয়ন খুলনা
২০১০ সাল: চ্যাম্পিয়ন ঢাকা








