আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে অবাধ, নিরপক্ষে ও সুষ্ঠু হয় সে লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমান কমিশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে। তার মাস তিনেক আগে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের জন্য ৭ দফা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনসহ নানা বিষয়ে প্রস্তাব তুলে ধরেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে খালেদার রূপরেখার মূল বিষয় সকল রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন গঠন। তিনি রাষ্ট্রপতির উদ্যোগে প্রাথমিক আলোচনা, নিবন্ধিত সকল দল কিংবা অতীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাছাই কমিটি গঠন এবং রাষ্ট্রপতি-বাছাই কমিটি-দলগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন সংক্রান্ত রূপরেখা ঘোষণার মাধ্যমে বেগম জিয়া হয়তো এ ইঙ্গিতও দিয়েছেন যে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি থেকে তিনি সরে এসেছেন। প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন হলে তিনি হয়তো আর নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানাবেন না। স্বাভাবিকভাবেই একটি গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন কমিশনের চরিত্র স্বাধীন ও নিরপেক্ষই হয়। কিন্তু, এদেশে তা ছিল না বলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে তুমুল আন্দোলন গড়ে উঠেছিল এবং অনেক রক্তের বিনিময়ে তা বাস্তবায়িতও হয়েছিল। সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে সর্বোচ্চ অাদালত সেই ব্যবস্থা পরে বাতিল করেছে। সে কারণে শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে একদফা নির্বাচন বয়কটও করেছেন বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু, নির্বাচন কমিশন গঠনে রূপরেখা ঘোষণার মাধ্যমে বেগম জিয়া এখন এ ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে তিনি আগামীতে শুধু নিরপেক্ষ এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের নিশ্চয়তা পেলেই নির্বাচনে যাবেন। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন শুধু বিএনপি বা বেগম জিয়ার একার দাবি নয়, বাংলাদেশের প্রাচীণতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগও নিশ্চয়ই তা চায়। বেগম জিয়ার প্রস্তাবে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একে ‘অন্তঃসারশূন্য’ বলেছেন। সংবিধানের বাইরে কিছু করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে এটা সরকার এবং সরকারি দলের পক্ষে শুধুই প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকারই সংবিধানের সবেচেয়ে বড় চেতনা। সেজন্য স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন জরুরি। সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য মানে যেমন শুধু বেগম জিয়ার কাছে গ্রহণযোগ্য না তেমনি কোনকিছুর দোহাই দিয়ে শুধু আওয়ামী লীগের কাছে গ্রহণযোগ্য কমিশনই সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিশ্বাস করতে চাই সরকার তার গণতান্ত্রিক চরিত্র প্রমাণে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করবে। সেক্ষেত্রে একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে বেগম জিয়ার প্রস্তাবও তারা বিবেচনায় নেবে, প্রয়োজনে এজন্য আলোচনা শুরু করবে।







