বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ফিরতি লেগের ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ফরোয়ার্ড টিম ক্যাহিলের হ্যাটট্রিকে ৪-০ গোলে জয় পেয়েছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। ২০১২ সালে আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া ম্যাচের পর সম্প্রতি বাংলাদেশের মাঠে এটা ছিলো অন্যতম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। তাই উত্তেজনা থাকাটা যতটা স্বাভাবিক তারচেয়ে খানিকটা বেশিই ছিলো। কারণ সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার প্রতিপক্ষ স্বয়ং লাল-সবুজরা।
ঘরের মাঠে ফেবারিট হলেও শক্তিশালী অজিদের বিপক্ষে পিছিয়েই ছিলো বাংলাদেশ। সফরকারীদেও দলে ইউরোপের নামী দামী ক্লাবে খেলা ফুটবলাররা খেলেছে। রাঙ্কিংয়েও বিস্তর ফারাক। তাই চেষ্টা যতটা ছিলো ডিফেন্সিভ খেলা যায়।
নিজেদের পায়ে বল কতক্ষণ থাকে সেটারও পরীক্ষা বটে। কারণ অ্যাওয়ে ম্যাচে পার্থে ৫-০ গোলের হারেও বাংলাদেশ যতটা পিছিয়ে গেছে, ততটাই এগিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এমনই এক পরিসংখ্যান আর মাপ-ঝোঁক কেটে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বেও ফিরতি লেগে মাঠে নামে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া। তারপরেও বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব বলে কথা! উত্তেজনার কমতি ছিলো না।
বিকেলে খেলা শুরু হলেও দুপুর থেকেই বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম চত্বরে ফুটবল প্রেমীদেও ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। অনেকটা জানা ফলাফল, তারপরেও আগ্রহের কমতি ছিলো না। চাওয়া ছিলো এটুকুই, লড়াই করেই যেন ফলাফলটা আসে।
শুরুতে দর্শক চাহিদার মতো মিল রেখেই খেলতে থাকে বাংলার দামাল ছেলেরা। ৬ মিনিটের মধ্যে অ্যারোন মোয়ের ফ্রি কিক থেকে টিম ক্যাহিলের গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। তবে পরের ২৯ মিনিট দারুণ চমক দিয়েছে মামুনুল-হেমন্তরা।
৩২ মিনিটে আবারো এগিয়ে যায় সকারুরা। এবারো মোয়ের ক্রস থেকে জটলার মধ্য থেকে ক্যাহিলের গোল। পাঁচ মিনিট পর নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন টিম ক্যাহিল। এবারো তাকে গোলে সহায়তা অ্যারোন মোয়ে।
প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার দু’মিনিট আগে সকারুদের মাইল জেদিন্যাকের গোলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৪-০।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা গুছিয়ে খেলায় ব্যাস্ত থাকে মামুনুল হেমন্তরা। অপরদিকে আক্রমণের ধার আরো বাড়ায় অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু লাল সবুজের রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের দৃঢ়তায় আর কোনো গোলের দেখা পায়নি সকারুরা।
ম্যাচের শেষ মূর্হুতে বেশ কয়েকবার অস্ট্রেলিয় দূর্গে হানা দিলেও গোল আদায় করতে পারেনি বাংলাদেশ।







