শ্রীলঙ্কায় নিধাস ট্রফির পরই হেড কোচ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। টাইগারদের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনায় এগিয়ে রিচার্ড পাইবাস। কয়েকমাস ধরেই যার কোচ হওয়া, না হওয়া নিয়ে নানা রকম আলোচনায় সরব থেকেছে বিসিবি পাড়া। বৃহস্পতিবার সেই আলোচনা আরেকবার মাথাচাড়া দিয়েছে। তিন মাস আগে বিসিবির কাছে সাক্ষাতকার দিয়ে গেছেন পাইবাস। আলোচনার সঙ্গে এখন তাই প্রশ্নও উঠেছে, ৫৩ বছর বয়সী ইংলিশই যদি কোচ হবেন তবে এতটা বিলম্ব কেন করছে বিসিবি!
যদিও দ্বিতীয় মেয়াদে পাইবাসের বাংলাদেশের কোচ হওয়ার ব্যাপারটি নিয়ে মুখ খুলছে না বিসিবির কেউ। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছেন সংশ্লিষ্টকর্তারা। বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী বৃহস্পতিবার জানান, এমন কোন তথ্য তার কাছে নেই। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খান মিরপুরে আসলেও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোচ ইস্যুতে কথা বলতে রাজী হননি। বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূঁইয়া জানালেন, কোচ ঠিক হওয়া মাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানানো হবে, এটি নিয়ে লুকোচুরির কিছু নেই।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে হাথুরু-অধ্যায় চুকে যাওয়ার পরই হেড কোচ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে সাক্ষাতকার দিতে ইংল্যান্ড থেকে উড়ে এসেছিলেন পাইবাস। টাইগার ক্রিকেট নিয়ে তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা শুনে সন্তুষ্টির কথা জানিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। তার কয়েকদিন পরই সাক্ষাতকার দিয়ে যান ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল সিমন্স। দুজনের মধ্যে কেউ একজন কোচ হবেন সেটি ধরে নেয়া হলেও অন্য অনেকের আগ্রহ দেখে আরও যাচাই-বাছাইয়ে সময় নেয় বিসিবি।
পরে চলে কোচবিহীন ক্রিকেট। হাথুরু বাংলাদেশের হেড কোচের দায়িত্ব ছেড়েছেন গত বছরের অক্টোবরে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রধান কোচ ছাড়া খেলে বাংলাদেশকে লজ্জায় ডুবিয়েছেন ক্রিকেটাররা। হেড কোচ কতটা জরুরী সেটা টের পাচ্ছেন সবাই। কোচ ছাড়া খেলার সাহস দেখালেও বিসিবিও বুঝেছে আত্মঘাতী ছিল সিদ্ধান্তটি। সম্প্রতি নাজমুল হাসান পাপন সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট করেই বলেন, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজে খারাপ পারফরম্যান্সের অন্যতম কারণ হেড কোচের অভাবে সিদ্ধান্তহীনতা।
পাইবাস আগেও বাংলাদেশে কাজ করে গেছেন। ২০১২ সালে স্টুয়ার্ট ল’র স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। বিসিবির সঙ্গে তিক্ততায় দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে যেতে পারেননি সেসময়। অনুশীলনে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্যসম্মত খাবার না দেয়ার অভিযোগও তুলেছিলেন পাইবাস। বিসিবির কাছে যে ধরনের সহায়তা আশা করেছিলেন, সেসময় মেলেনি সেগুলোও। পরে সাড়ে চার মাস কাজ করার পর না জানিয়েই চলে যান তিনি। নাজমুল হাসান জানিয়েছিলেন, এবার নাকি নিজ আগ্রহেই কোচ হতে চাইছেন পাইবাস।
বাংলাদেশে কোচের চাকরি না পেয়ে পাইবাস ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ডে হাই-পারফরম্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে যোগদান করেছেন সম্প্রতি। সেখানে অতীতেও কাজ করেছেন। সেখানেও হুট করেই ছেড়েছিলেন চাকরি।









