২০,২৯৫ ফুট উঁচু হিমালয়ের ‘কোয়াজো-রি’ শিখর জয় করে ফিরলো বাংলাদেশ পর্বতারোহী দল। বাংলাদেশের তিন পর্বতারোহী, এম এ মুহিত, কাজি বাহলুল মজনু ও ইকরামুল হাসান শাকিল ‘কেয়াজো-রি’ চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান। দলের অপর সদস্য নূর মোহাম্মদ ও শামীম তালুকদার ৫,৮০০ মিটার এবং শায়লা পারভীন ও ফৌজিয়া আহমেদ ৪,৭২৫ মিটার পর্যন্ত আরোহণ করেন।
পর্বতারোহন শেষে দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনে অভিযানের দলনেতা দু’বারের এভারেস্ট জয়ী একমাত্র বাংলাদেশী পর্বতারোহী এম এ মুহিত ‘কেয়াজো-রি’ শিখরে উন্নীত জাতীয় পতাকাটি কর্তৃপক্ষকে ফিরিয়ে দেন এবং অভিযানের ছবি উপস্থিত দর্শক-সাংবাদিকদের দেখান। দলের অপর ছয় অভিযাত্রী কাজি বাহলুল মজনু, ইকরামুল হাসান শাকিল, নূর মোহাম্মদ, শামীম তালুকদার, শায়লা পারভীন ও ফৌজিয়া আহমেদ অভিযানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।
এভারেস্টের দক্ষিণ-পশ্চিমে ২০,২৯৫ ফুট উঁচু ‘কেয়াজো-রি’ শিখরটি সলু-খুম্বু অঞ্চলের অন্যতম দূর্গম পর্বত। বাংলাদেশের পর্বতারোহী দলটি ২৭ অক্টোবর ২০১৫ নেপালের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে। ৩০ অক্টোবর হিমালয়ের ৯,৩১৭ ফুট উঁচু লুকলা বিমান বন্দর থেকে ট্রেকিং শুরু করেন এবং প্রায় ৫০ কিমি হেঁটে ৪ নভেম্বর বেস-ক্যাম্পে (১৪,৭০০ ফুট) পৌঁছান। ৬ নভেম্বর অভিযাত্রী দল ১৭,২০০ ফুট উচ্চতায় হাই-ক্যাম্প স্থাপন করে।
৭ নভেম্বর রাত ১টায় হাই-ক্যাম্প থেকে গাইড দা কিপা শেরপা ও কিলি পেম্বা শেরপাকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশের পাঁচ পর্বতারোহী চূড়ান্ত-আরোহণ শুরু করেন। প্রায় ১,৬০০ ফুট দীর্ঘ বিপজ্জনক পাথরের দেয়াল ও বোল্ডার পার হয়ে এবং প্রায় ১,৫০০ ফুট খাড়া হিমবাহের দেয়ালে আইস-অ্যাক্স, ক্রাম্পন ও জুমারের সাহায্যে আরোহণ শেষে ৭ নভেম্বর ২০১৫ তারিখ নেপাল সময় সকাল ১১:৩০টায় এম এ মুহিত, কাজি বাহলুল মজনু ও ইকরামুল হাসান শাকিল, ‘কেয়াজো-রি’ শীর্ষে আরোহণ করেন।






