নামহীন কাল্পনিক সব প্রকল্প দেখিয়ে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে
রক্ষিত বাংলাদেশের ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ইউএস ডলার চুরি করে নেয় হ্যাকাররা।
তারা কোন কোন খাতের নামে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানিয়েছিল এক প্রতিবেদনে তার
বিস্তারিত তুলে ধরেছে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল।
এক বিলিয়ন ডলারের অনুরোধ
জানালেও চারটি প্রকল্পের জন্য আলাদা আলাদাভাবে পাঠানো অনুরোধ থেকে মোট ৮১
মিলিয়ন ডলার অর্থ ছাড়ের পর ভুয়া অনুরোধের বিষয়টি টের পায় ফেড রিজার্ভ।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে সঞ্চিত বাংলাদেশের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটে। এর বেশিরভাগটাই শেষ পর্যন্ত গিয়েছিল ফিলিপিন্সের বিভিন্ন ক্যাসিনোতে। নানা পদক্ষেপের পর অল্প কিছু উদ্ধার হলেও বেশির ভাগ অর্থই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্বখ্যাত ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ফিলিপিন্সের মাকাতি শহর থেকে ভিন্ন ভিন্ন চারটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের নামে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানানো হয়। ফিলিপিন্স সিনেটে শুনানির পর জানানো হয়, দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্তত ৬৯টি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে ৩৫টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়।
অনুরোধের ভিত্তিতে ৬ মিলিয়ন, ২০ মিলিয়ন, ২৫ মিলিয়ন ও ৩০ মিলিয়নের চারটি কিস্তিতে অর্থ ছাড় দেয় ফেড রিজার্ভ।
এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থা, বন সংরক্ষণ, সাবস্ক্রিপশন এবং সামরিক প্রশিক্ষণের নামে আরো হাজার হাজার ডলার অর্থ ছাড়ের অনুরোধ ছিল।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল পর্যালোচিত পেমেন্ট অর্ডার থেকে দেখা যায়, ফ্রেব্রুয়ারিতে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচুর অর্থ ছাড়ের অনুরোধ আসে। এর মধ্যে ১৮টি ছিল বৈধ। আর ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অনুরোধ আসে একজন তথাকথিত কর্নেলের নামে। আইভরি কোস্টে নিযুক্ত বাংলাদেশী শান্তিরক্ষী বাহিনীর টেলিফোন বিল বাবদ ৭২৩ ডলার চাওয়া হয়।
তবে, সবচেয়ে বেশি অনুরোধ আসে ফিলিপিন্স থেকে। বাংলাদেশের অবকাঠামো প্রকল্পের পাওনা বাবদ অর্থ ছাড়ের অনুরোধ জানায় তারা। এরকম বেশ কিছু প্রকল্পের নামে অর্থ ছাড়ের অনুরোধ আসে।
ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন(আরসিবিসি) নথিতেও দেখা যায়, যেখানে অর্থ-স্থানান্তরের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিকভাবে যুক্তিসঙ্গত নিরাপত্তা পদ্ধতি ব্যবহার করার কথা সেখানে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।
ওয়ালস্ট্রিটের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাইকেল এফ ক্রুজের অনুরোধের ভিত্তিতে অনির্ধারিত অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য ৬ মিলিয়ন ডলার ছাড় দেয় ফেড।
আলফ্রেড এস ভারগার অনুরোধে ভেড়ামারা বিদ্যুৎ প্রকল্পের উন্নয়নের নামে ছাড় দেয়া হয় ২০ মিলিয়ন ডলার। এনরিকে ডি ভাজকুয়েজের পাঠানো অনুরোধে ২৫ মিলিয়ন ডলার ছাড় দেয়া হয় সেতু অবকাঠামো উন্নয়নের নামে।
সবচেয়ে বড় কিস্তি ৩০ মিলিয়ন ডলার ছাড় দেয়া হয় ট্রানজিটের নামে। আর এই কিস্তির জন্য অনুরোধ করেছিলেন জেসিস ক্রিস্টোফার এম লাগ্রোসাস।










