নেপালে বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা উড়োজাহাজের ব্ল্যাক বক্স পরীক্ষার জন্য কানাডায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা (জেনারেল ম্যানেজার) মো. কামরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউএস বাংলার বারিধারার কর্পোরেট অফিসে তিনি সাংবাদিকদের তিনি বলেন, নেপাল সিভিল এভিয়েশনের মহাপরিচালক গতকাল জানিয়েছে আমাদের এয়ার ক্রাফট কিংবা পাইলটের কোনো সমস্যা ছিল না। আমাদের সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যানও গতকাল একই কথা গণমাধ্যমে বলেছেন।
‘সমস্যা ছিল কি ছিল না সেটাতে আমরা না যাই, এখন সব কিছু তদন্তাধীন বিষয় এখন আমরা ব্ল্যাক বক্স ও সিভিআর রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। যার মাধ্যমে আমরা সুষ্ঠু একটা রিপোর্ট যেন পাই এবং ভবিষ্যতে যেন এরকম অবস্থা যেন সৃষ্টি না হয়। ব্ল্যাক বক্সে রিডিং সময় সাপেক্ষ, একটু অপেক্ষা করছি আমরা।’
এই মুর্হূতে আমরা নিজস্ব খরচে সব কিছু করছি জানিয়ে কামরুল হাসান বলেন: কিছুক্ষণ আগে আমরা জানতে পেরেছি আমাদের বিমান দুর্ঘটনায় আহত শাহরীন আহমেদকে আমাদের নিজেদের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে বিকালে ঢাকা নিয়ে আসা হয়েছে।

‘আহতদের সকল চিকিৎসার ব্যয়ভার ইউএস বাংলা বহন করবে, এছাড়াও নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে আনতে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেটাও আমরা নিব।’
যাত্রীদের ক্ষতিপূরণের ব্যাপারে তিনি বলেন: আমাদের এয়ার ক্রাফট, যাত্রী, কেবিন ক্রু পাইলট সবার ইন্সুরেন্স করা আছে। দেশে সেনা কল্যাণ ও বিদেশে লন্ডন ভিত্তিক একটি সংস্থা। বিদেশের সংস্থাটি তাদের অনুসন্ধান শুরু করেছে, এরপর বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
কামরুল বলেন, আমাদের নিজেদের মেডিকেল বোর্ড কাজ করছে, সরকার থেকে একটা মেডিকেল বোর্ড গিয়েছে, তারা পর্যবেক্ষণ করছে, যদি প্রয়োজন হয় তবে আমাদের মেডিকেল টিম যাবে।
‘যাত্রীদের বলব কোন ধরণের আতঙ্কের কিছু নেই, বিমান দুর্ঘটনা পৃথিবীতে ঘটে থাকে, মানুষের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে মানুষের গতিশীলতাকে আতঙ্ক আটকে রাখতে পারবে না।’
সোমবার ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ ৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজটি ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়ে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে নেপালে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়।
এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫১। এর মধ্যে ২৮ জন বাংলাদেশি, ২২ জন নেপালি এবং ১ জন চীনা নাগরিক। চিকিৎসাধীন যাত্রীদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উড়োজাহাজটিতে থাকা ৬৭ যাত্রীর মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশী, ৩৩ জন নেপালি, একজন মালদ্বীপের এবং একজন চীনের নাগরিক। উড়োজাহাজটিতে ৬৭ যাত্রীর পাশাপাশি ৪ জন ক্রু ছিলেন বলে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।








