কানাডার বসবাসরত প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি অভিবাসীরা নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুরো জুলাই মাস জুড়ে প্রাণবন্ত গ্রীষ্মকাল উদযাপন করেছে।
ম্যানিটোবার বাংলাদেশি অভিবাসীগণ পারস্পারিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সামাজিক যোগাযোগ ও নানাবিধ অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিশেষ পরিচিত। প্রদেশের বাংলাদেশিরা নানা ধরণের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনসহ দুইটি কো-অপারেটিভ এর সঙ্গে জড়িত। এই সংগঠনগুলোর বিশেষত্ব এই যে প্রতিটির প্রত্যেক কর্মকান্ডই প্রত্যেক বাংলাদেশির জন্য উন্মুক্ত। তারই অংশ হিসেবে তারা একাধিক বৃহত্তর সামাজিক কর্মকান্ডে অংশ নেন।

কানাডার তিনটি প্রেহরির প্রদেশের একটির নাম ম্যানিটোবা।অত্যন্ত শীতপ্রধান এলাকা হওয়ায় কৌতুক করে কানাডিয়রা প্রদেশটিকে উইন্টারপেগও বলে থাকে।কৃষিনির্ভর প্রদেশ হিসাবে ‘কানাডার শস্যভান্ডার’ পরিচিতির বাইরেও ম্যানিটোবার ব্যাপক পরিচিতি আছে হাজারখানকে হ্রদ, আদিবাসীদের আধিক্য,তিমি, সীল এবং উত্তর মেরুতে ‘আরোরা’ বা বহুবর্ণ রঙ্গিন আলোর খেলার জন্য। সবুজ বন-বনানী এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে গ্রীষ্মকালটি এই প্রদেশে বিশেষভাবে উপভোগ্য। ম্যানিটোবার বাংলাদেশি প্রবাসীরাও গ্রীষ্মকালীন আনন্দ উপভোগের কোনো কমতি রাখেন না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় ম্যানিটোবার গ্রীষ্মকাল বাংলাদেশিদের পারিবারিক উৎসবের মূল সময় হয়ে উঠে।
আশির দশকের মাঝমাঝিও ম্যানিটোবায় বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ছিল দুই’শ জনের মত। একবিংশ শতকের শুরু হতে বাংলাদেশিরা সহজ ইমিগ্রেশনের সুবিধা নেবার প্রয়োজনে ম্যানিটোবায় অভিবাসনে আগ্রহী হয়ে উঠেন। বর্তমানে ম্যানিটোবায় প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি বাস করছেন। অভিবাসীদের অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত, এবং পেশাগতভাবে শিক্ষকতা, চিকিৎসাসেবা, প্রকৌশলবিদ্যা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রয়েছেন।

বাংলাদেশ কমিউনিটি কঞ্জ্যুমার্স কো-অপারেটিভ লিমিটেড ৯ই জুলাই মনোলোভা গিমলি সৈকত -এ বার্ষিক পূণর্মিলনী ও নতুন সদস্য বরণ ও অভিনন্দনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটিতে মজাদার খাবার, শিশুদের জন্য চিত্রাংকন, একাধিক মজাদার প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়।


১৫ জুলাই বাংলা স্কুল, উইনিপেগ এর শিক্ষক-ছাত্রছাত্রী-অভিভাবকদের বার্ষিক ত্রি-পক্ষিয় সংযোগ সভা এবং চড়ুইভাতি সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা স্কুল ২০১২ সাল হতে অদ্যাবধি অবৈতনিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এই অনুষ্ঠানটি নিয়মিত পালন করে চলেছে। বাংলাদেশি স্কুল ছাত্রছাত্রীদের প্রাথমিক ভাষা শিক্ষাদান ছাড়াও বাংলা স্কুল উচ্চতর শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের জন্য উইনিপেগ স্কুল ডিভিশনের অধীনে অতিরিক্ত ভাষাজ্ঞান পরীক্ষার আয়োজন করে।

দ্যা বেঙ্গল টাইগার্স ক্লাব ১৬ই জুলাই কানাডার হোয়াইট শেল প্রভিন্সিয়াল পার্ক এর অধীন ফ্যাল্কন লেইক-এ বার্ষিক বনভোজন ও ক্রীড়ানুষ্ঠানের আয়োজন করে। কিশোর যুবকদের শারিরীক ও মানসিক বিকাশের জন্য বেংগল টাইগার্স ক্লাব বছর জুড়ে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্টের আয়োজন করে থাকে। ক্রিকেট, ব্যাডমিনটন ও ফুটবল টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী দলকে হারিয়ে ক্লাবটি উইনিপেগের ক্রীড়া মহলে নিজস্ব পরিচিতি অর্জনেও সক্ষম হয়েছে।

কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইনকর্পোরেটেড (সিবিএ) এর বার্ষিক বনভোজন ২৩ জুলাই পোর্টেজ লা প্রেইরির আইল্যান্ড পার্ক-এ উদযাপিত হয়। কানাডা-বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ম্যানিটোবায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের মূল প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন। সিবিএর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য আয়োজিত আরো নানবিধ অনুষ্ঠানের মধ্যে বার্ষিক মিলনমেলাটি অন্যতম। বরাবরের মত শিশুদের জন্য ছিলো মূল আকর্ষণ ‘যেমন খুশি সাজো’ এবং ‘বাউন্সি ক্যাসেল’। সুস্বাদু খাবার-দাবারসহ সব ধরণের বয়সের বাংলাদেশি প্রবাসীদের আনন্দময় সময় উদযাপনের ব্যবস্থা ছাড়াও ম্যানিটোবায় আগত নবাগতদের বরণ করে নেবার প্রচেষ্টাও ছিল নজরে পড়ার মত। পুরস্কার বিতরণ এবং ১০ সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য সিবিএর বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ঘোষণা ও রূপরেখা প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।







