থাইল্যান্ডের গুহায় দু’সপ্তাহ আটকে থাকার পর রোববার উদ্ধার হওয়া চার কিশোরকে অবশেষে দেখতে পেয়েছেন তাদের বাবা-মা।
তবে আবেগে জড়িয়ে ধরা তো দূর, সামনাসামনি কথা বলার বা ছুঁয়ে দেখার অনুমতিও পাননি তারা। শুধু হাসপাতালের কাচের জানালার এ পাশ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন ছেলেদের।
চিয়াং রাইয়ের থাম লুয়াং নাং নন গুহা থেকে সোমবার উদ্ধার হওয়া আরও চার কিশোরকে এখনো তাদের বাবা-মায়ের সাথে দেখা করতে দেয়া হয়নি। তারাও একই পদ্ধতিতে মঙ্গলবার দিনের কোনো এক সময় বাবা-মাকে দেখার সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোববার ও সোমবার মিলে গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া মু পা (ওয়াইল্ড বোরস) ফুটবল অ্যাকাডেমির ৮ ক্ষুদে ফুটবলার এখনো চিয়াং থেইর প্রাচানুক্রো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদেরকে ‘কোয়ারেনটিন’ অবস্থায়, অর্থাৎ শুধু চিকিৎসক ও আবশ্যক মেডিকেল কর্মী ছাড়া সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে রাখা হয়েছে।
কেমন আছে উদ্ধার হওয়া ক্ষুদে ফুটবলাররা
তারা সবাই সুস্থ আছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, গুহার ভেতরে এতদিন বন্দী থেকে কিশোররা কোনো ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মুখে আছে কিনা তা নিশ্চিতভাবে জানতেই তাদেরকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া ছেলেদের হাইপোথার্মিয়ার পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, ফুসফুসের এক্স-রে, হৃদস্পন্দন মনিটরসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রথম দফায় উদ্ধার চারজনের বয়স ১৪ থেকে ১৬ এবং দ্বিতীয় দফায় উদ্ধার কিশোররা ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী।
কিশোরদের সবাইকে গুহা থেকে বের করার সময় প্রটেক্টিভ সানগ্লাস পরিয়ে রাখা হয়েছিল, যেন গুহার অন্ধকারে থাকার পর বাইরের আলোতে চোখের ক্ষতি না হয়। তাদের দৃষ্টিশক্তিও পরীক্ষা করে দেখছেন চিকিৎসকরা। তবে প্রথম চারজন সানগ্লাস খোলার অনুমতি পেয়েছে।
উদ্ধারের পর কী খাচ্ছে তারা
টানা ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর ডুবুরিরা যখন গুহার ভেতরে ১২ কিশোর ফুটবলার ও তাদের তরুণ কোচ এক্কাপল চান্তাওয়াংকে খুঁজে পান, তখন সবাই ছিল ক্ষুধায় কাতর। তখন তাদের শুধু তরল বা জেল জাতীয় সহজপাচ্য খাবার দেয়া হয়েছিল বের করে আনার আগ পর্যন্ত। সেসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে শক্তিবর্ধক ও খনিজ উপাদান ছিল।
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে ছেলেদের সবাই স্বাভাবিক খাবার খাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছে।
তবে আপাতত খাবারের ব্যাপারে তাদের একটু সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. চোকেদমানরংসুক। তিনি জানান, রোববার উদ্ধার হওয়া চার কিশোর আজ থেকে সেদ্ধ ভাত খেতে পারবে। তবে এর সঙ্গে বেশি ঝাল বা মশলাদার খাবার খাওয়া যাবে না।
যে কোনো ধরনের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে আগামী পুরো সপ্তাহটাই উদ্ধার হওয়া সবাইকে হাসপাতালে আইসোলেশনে রাখা হবে বলে জানিয়েছেন ডা. চোকেদমানরংসুক। এ সময়টায় তাদেরকে দফায় দফায় বিভিন্ন মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে গুহায় আটকে থাকা বাকি ৪ কিশোর ও তাদের কোচকে উদ্ধারের অভিযান। ভোররাত থেকেই টানা বর্ষণ চলছে। গুহার ভেতর জমে থাকা বন্যার পানির উচ্চতা এতে আরও অনেক বেড়ে যাবে, এই আশঙ্কায় তাই মঙ্গলবার সকাল সকালই কাজ শুরু করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
গত ২৩ জুন থেকে এ পর্যন্ত থাইল্যান্ডের চিয়াং রাই শহরের ন্যাশনাল পার্ক লাগোয়া জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ি এলাকার থাম লুয়াং নাং নন গুহায় আটকা পড়ে ১২ কিশোর ফুটবলার আর তাদের ২৫ বছর বয়সী কোচ।
টানা ৯ দিনের চেষ্টায় তাদের কাছে পৌঁছানোর আরও ৬ দিন পর রোববার দলটিকে বের করে আনতে চূড়ান্ত অভিযান শুরু করে উদ্ধার কর্তৃপক্ষ।







