বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় টেলিকম গ্রামীনফোনের বেশিরভাগ শেয়ারের মালিক বহুজাতিক টেলিকম কোম্পানি ‘টেলিনর’ ৬ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে। আগামী তিন বছরে সারাবিশ্বজুড়ে টেলিনরের কর্মীবাহিনী থেকে এ কর্মী ছাঁটাই করা হবে বলে বিভিন্ন আন্তজার্তিক গণমাধ্যমে প্রকাশ। ২০১৭ সালেও তারা ২ হাজার ৬০০ কর্মী ছাটাই করেছে।
উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করে স্বয়ংক্রিয় সেবা ব্যবস্থা চালুর কারণে কর্মীসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরওয়েভিত্তিক ওই প্রতিষ্ঠানটি।
এশিয়া ও ইউরোপের ১২টি দেশে কমবেশি ১৭ কোটি ৮০ লাখ গ্রাহক রয়েছে টেলিনরের। বাংলাদেশে গ্রামীনফোনের প্রায় ৫৫.৮% শেয়ারের মালিক এই টেলিনর। বাংলাদেশসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম বাজারে ভালো অবস্থানে থাকলেও ভারত এবং ইউরোপের কিছু দেশে মোটেও ভাল করতে পারছে না তারা। কর্মী ছাটাইয়ের মাধ্যমে গত বছর ১৬০ কোটি নরওয়েজিয়ান ক্রোনা (২০ কোটি ৮০ লাখ ডলার) ব্যয়সংকোচন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
টেলিনরের তথ্যমতে, ২০১৮-২০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বার্ষিক ১-৩ শতাংশ হারে ব্যয়সংকোচন করা হবে। এ সময়ে প্রতি বছর ব্যয়সংকোচন হবে ৪৫ কোটি থেকে ১৩৫ কোটি ক্রোনা এবং বছরে গড়ে প্রতিষ্ঠানটির দুই হাজার কর্মী চাকরি হারাবেন।
টেলিযোগাযোগ খাতের গুরুত্বপূর্ণ বাজার ভারত থেকে এরই মধ্যে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে টেলিনর। গত বছর ফেব্রুয়ারিতে টেলিনর ইন্ডিয়া ভারতের আরেকটি টেলিকম কোম্পানি ভারতী এয়ারটেলের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে এক হয়েছে। এতে টেলিনর ইন্ডিয়ার অতিরিক্ত স্পেকট্রাম দখলে পেয়েছে ভারতী এয়ারটেল। টেলিনর ইন্ডিয়া অধিগ্রহণের ফলে ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডের ৪৩.৪ মেগাহার্টজ তরঙ্গ দখলে পেয়েছে ভারতী এয়ারটেল।
টেলিনর ইউরোপের কয়েকটি বাজারেও সঙ্কটের মুখে থেকে তাদের সম্পদ বিক্রির চেষ্টা করে যাচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদ সূত্রে জানা গেছে, বুলগেরিয়া, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো এবং হাঙ্গেরি থেকে ২০০ কোটি ইউরো মূল্যের সম্পদ বিক্রির চেষ্টা করছে।







