সৌদি আরবে প্রবেশ বা দেশ ত্যাগের সময় নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ বহনের ক্ষেত্রে ঘোষণা দেওয়ার বাধ্যতামূলক সীমা কমিয়েছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে ৪০ হাজার সৌদি রিয়াল বা তার বেশি মূল্যের নগদ অর্থ কিংবা মূল্যবান সামগ্রী বহন করলে তা কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।
সৌদি আরবের সরকারি গেজেট উম্ম আল-কুরাতে প্রকাশিত অর্থপাচারবিরোধী আইনের সংশোধিত নির্বাহী বিধিমালায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে এই সীমা ছিল ৬০ হাজার সৌদি রিয়াল।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, স্থল, নৌ ও আকাশপথে সৌদি আরবে প্রবেশ বা দেশ ত্যাগের সময় ৪০ হাজার রিয়াল বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, বেয়ারার নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট, স্বর্ণের বার, মূল্যবান ধাতু, রত্নপাথর, গয়না কিংবা সমমূল্যের অন্য সম্পদ বহন করলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ঘোষণা দিতে হবে।
সংশোধিত বিধিমালার মাধ্যমে জাকাত, ট্যাক্স অ্যান্ড কাস্টমস অথরিটিকে (জ্যাটকা) আরও বিস্তৃত তল্লাশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কাস্টমস এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার সময় ব্যক্তি, যানবাহন, কনটেইনার এবং ডাকযোগে পাঠানো পার্সেলও তল্লাশি করতে পারবে সংস্থাটি। ঘোষণা না দেওয়া বা ভুল তথ্য দেওয়ার সন্দেহ হলে, এমনকি বহন করা সম্পদের মূল্য বাধ্যতামূলক ঘোষণার সীমার নিচে হলেও, অর্থপাচার বা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহ থাকলে জ্যাটকা সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টার জন্য নগদ অর্থ, স্বর্ণ, মূল্যবান ধাতু, রত্নপাথর বা গয়না জব্দ করতে পারবে।
এই ক্ষেত্রে জব্দ করা সম্পদের বিস্তারিত নথিভুক্ত করা, সম্পদের উৎস ও ঘোষণা না দেওয়ার কারণ সম্পর্কে প্রাথমিক তদন্ত পরিচালনা এবং নগদ অর্থ নির্ধারিত ট্রাস্ট অ্যাকাউন্টে জমা রাখার বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে স্বর্ণ ও মূল্যবান রত্ন কাস্টমসের হেফাজতে থাকবে। প্রয়োজনে পাবলিক প্রসিকিউশন জব্দের মেয়াদ আরও ৬০ দিন পর্যন্ত বাড়াতে পারবে। এর বেশি সময় সম্পদ জব্দ রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমোদন নিতে হবে।
নতুন নিয়মে ৪০ হাজার রিয়াল বা তার বেশি মূল্যের স্বর্ণ, মূল্যবান ধাতু, রত্ন বা গয়না বহনকারী যাত্রীদের ক্রয়ের রসিদ বা চালান কাস্টমস কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। যাচাই শেষে এসব পণ্য বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে আনা হয়েছে বলে প্রমাণিত হলে সেগুলো ইউনিফায়েড কাস্টমস আইনের আওতায় শুল্ক ও অন্যান্য বিধান অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।
এদিকে অর্থপাচার প্রতিরোধে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে গ্রাহকের প্রকৃত মালিকানা শনাক্ত করা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রতিষ্ঠানে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ২৫ শতাংশ বা তার বেশি মালিকানা বা কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকা ব্যক্তির তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে।
এছাড়া বিদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সৌদি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেখানে সম্ভব সৌদি আরবের অর্থপাচারবিরোধী বিধান অনুসরণ করতে হবে। স্থানীয় আইন তা বাধাগ্রস্ত করলে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সৌদি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানাতে হবে। ঘোষণা সংক্রান্ত নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রথমবার জব্দ করা সম্পদের মূল্যের ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হবে, যদি অর্থপাচার বা অন্য কোনো অপরাধের সংশ্লিষ্টতা না থাকে। একই অপরাধ পুনরায় করলে জরিমানার পরিমাণ জব্দ করা সম্পদের মূল্যের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
অন্যদিকে অর্থপাচার বা অন্য কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্তের জন্য পাবলিক প্রসিকিউশন-এ পাঠানো হবে এবং একই সঙ্গে সৌদি ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হবে।







