করোনাভাইরাস: ক্ষুধা ও দারিদ্র্য অবসানে কৃষি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও অংশীদারিত্ব দরকার

দুটি ব্যক্তি কৃষি জমিতে গবেষণা বা পরীক্ষা চালাচ্ছেন, পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের অবসান ঘটাতে কৃষি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং অংশীদারিত্বের দরকার হবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা নিয়ে ভোগান্তি আরো বেড়েছে। এশিয়ার অর্থনৈতিক খণ্ডন সত্ত্বেও এই মহাদেশেই বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি পুষ্টিহীন জনগোষ্ঠী রয়েছে।
বর্তমানে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীরগতিতে এবং খাদ্য সুরক্ষাকে আরও হুমকির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
দক্ষিণ এশিয়া মূলত ভঙ্গুর পরিস্থিতিতে রয়েছে। সেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে ক্রমবর্ধমান নিম্নবিত্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় তৃতীয়াংশ থেকে ৩৩০ মিলিয়নে উন্নীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এটি বিশ্বের একমাত্র উপমহাদেশ যেখানে দরিদ্র শিশুদের অর্ধেকেরই শারিরীক বিকাশ বাধাগ্রস্ত। যাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের ভবিষ্যৎও। যদিও সবখানেই চ্যালেঞ্জ আছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের রাজ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি শিশু ক্ষতিগ্রস্তের হার রয়েছে এবং পূর্ব এশিয়ায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের জন্য বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্যয় করতে হয়।
সর্বোপরি, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগর এমন এক অঞ্চল যেখানে শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজন অন্য যে কোনও জায়গার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে।
আমরা দুটি মহামারীর মুখোমুখি। এক কোভিড-১৯ যেটা স্বাস্থ্যের ক্ষতি ছাড়িয়ে জীবিকার উপরও হাত দিয়েছে আর দুই ক্ষুধা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২ অনুসারে এই দশকের শেষেই যেটার সমাপ্তির আশা করা হচ্ছে।
এগুলি মোকাবেলায় নতুন ধারণা এবং আরও শক্তিশালী রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রয়োজন। শক্তিশালী অর্থনীতির কারণে অতীতের অগ্রগতি টিকে ছিলো। তবে এখন আর তেমনটা ঘটবে না। ঘটনাগুলি যেহেতু পরিবর্তিত হয়েছে, তাই আমাদের মনও পরিবর্তন করতে হবে।
আমাদের নতুন পদ্ধতির বিপণন চ্যানেলগুলি (ই-কমার্সের মতো) চিহ্নিত করে ক্ষয় হ্রাস করার দক্ষতা বৃদ্ধি, উপলভ্য ও স্টোরেজ সুবিধাগুলি উন্নত করা যা স্বাস্থ্যকর খাবার এবং আয়ের প্রবাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং খাদ্য ব্যবস্থা জুড়ে স্থিতিস্থাপকতা বাড়ানোর উপায় খুঁজে বের করতে হবে। গ্রামীণ সরবরাহ চেইনগুলিকে শক্তিশালীকরণ ও সম্প্রসারণের জন্য অর্থ সংস্থায় অন্তর্ভুক্তিও গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সম্প্রতি একটি নতুন বিস্তৃত কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া এবং পুনরুদ্ধার প্রোগ্রাম চালু করেছে।
সেটা দেশ, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে সকল ধরণের সংস্থান এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রত্যেকের জন্য পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি চৌকস এবং সমন্বিত বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া সরবরাহ করার কাজ করবে। জাতিসংঘের এজেন্ডা অনুসারে ‘আরও উন্নততর গঠন’এর জন্য এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এসডিজি) অর্জনে, কোভিড-১৯ প্রতিক্রিয়া ও পুনরুদ্ধার প্রোগ্রামটি দীর্ঘমেয়াদী জোরদার করার সাথে সাথে মহামারীটির তাৎক্ষণিক প্রভাবগুলি হ্রাস করার লক্ষ্য পূরণ করার কাজ করবে।
সুতরাং আমরা অগ্রগতি অর্জন করছি, তবে আমাদের অগ্রাধিকার হিসাবে কৃষকদের নিয়মিত উদ্ভাবনের মাধ্যমে আরও গতিশীল, উদ্যোক্তা এবং প্রতিযোগিতামূলক হতে সক্ষম করতে হবে।
ফসলের ব্যর্থতার ভয় ছাড়াই পুষ্টিকর খাবার উৎপাদন করার জন্য আমাদের ক্ষুদ্রাকারী কৃষকদের প্রয়োজন এবং উৎপাদক এলাকার বাইরেও ক্ষুধার্তদের মুখে সেই খাবারগুলি তুলে দেওয়া দরকার। এটি করার জন্য, ক্ষুদ্রাকারী কৃষকদের আর্থিক সংস্থান, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব সম্পর্কেও মানুষকে শিক্ষিত করা দরকার, যাতে কৃষকরা এই খাবারগুলি বাজারজাত করতে পারে।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলটি যতটা বৃহত্তর তত গতিশীল। এখানে সেরা কিছু কৃষি বিজ্ঞানী, প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবনী ধারণা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং প্রশান্ত মহাসাগর থেকে শুরু করে চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং মধ্যবর্তী প্রতিটি দেশ, উদ্ভাবকরা প্রমাণ করছে যে প্রত্যেকে নতুন প্রযুক্তি এবং বিজ্ঞানের দ্বারা উপকৃত হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ বন্যা এবং কীটপতঙ্গ ঝুঁকি নিরীক্ষণ করতে ড্রোন স্থাপন করা থেকে শুরু করে স্মার্টফোন অ্যাপ্লিকেশন যা উদ্ভিদজনিত রোগ চিহ্নিত করতে পারে, ফসল এবং প্রাণিসম্পদ প্রজননে গড়ে ওঠা উন্নত জিনেটিক্স ব্যবহার, গৃহমধ্যস্থ কৃষিকাজ এবং ভোক্তার পুষ্টি গ্রহণ নীরিক্ষণ এবং স্মার্ট ক্রয়।
নষ্ট করার কোন সময় নেই তাদের। সরকার, প্রতিষ্ঠান, বেসরকারী খাত, ইউএন এজেন্সি, সুশীল সমাজ সংস্থা, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং যে লোকেরা আমাদের খাবার সরবরাহ করে সেই সব ক্ষুদ্রাকারীদের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত। মহামারী কাটিয়ে উঠতে আমাদের একযোগে কাজ করা দরকার যা প্রত্যেককে প্রভাবিত এবং জড়িত করে।
এই সম্মিলিত চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করার জন্য এফএও তাই হ্যান্ড-ইন-হ্যান্ড ইনিশিয়েটিভ চালু করেছে। ১-৪ সেপ্টেম্বর এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য এফএও আঞ্চলিক সম্মেলন, যা ভুটান দ্বারা আয়োজন করা হবে তা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে।
একসাথে কাজ করে, একসাথে শিখে এবং একসাথে অবদানের মাধ্যমে আমরা দুই মহামারীকেই কাটিয়ে উঠতে এবং কৃষি-খাদ্য ব্যবস্থাকে রূপান্তর করতে পারবো।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)






