খেলা শুরু হওয়ার আগে উইকেট দেখতে এসে ব্যাট নিয়ে শ্যাডো করতে দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার। পিচ কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু তা দেখে কাছে এসে বললেন, ‘পায়ের জুতো খুলতে হবে। স্পাইক নিয়ে ওঠা নিষেধ।’ ওয়ার্নার শেষ পর্যন্ত খালি পায়েই শ্যাডো করেন। মঙ্গলবার দলকে ২২৫ রানে রেখে যখন দিন শেষ করলেন, তখন তার ব্যক্তিগত সংগ্রহ ৮৮। ওই শ্যাডোতেই কি অজি ওপেনার উইকেট বুঝে নিয়েছিলেন?
উইকেট বোঝার এই প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের কারণে। নিজেদের প্রথম ইনিংসে অর্ধশতক করা সাব্বির রহমান আগের দিন বলেন, তিনি উইকেট বুঝতে পারেননি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং দেখে মনে হল, না বোঝার কিছু নেই। চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত ম্যাচের হাবভাব কী, এই প্রশ্ন কেউ করে বসলে উত্তর একটাই, এবার বাংলাদেশের সামনে কঠিন পথ। ম্যাচ জিততে যে কারো ঘাম ঝরবে।
বাংলাদেশ এদিন ৩০৫ রানে অলআউট হয়ে যায়। লাঞ্চের আগে অস্ট্রেলিয়া ব্যাট করতে নেমে পড়ে। মিরাজকে দিয়ে আক্রমণ শুরু করেন মুশফিক। দ্বিতীয় ওভারে আসেন মোস্তাফিজ। ওভারের তৃতীয় বলটি লেগস্টাম্পে ছিল। রেনশ ফাইনলেগে খেলতে যেয়ে কানায় লাগান। বল যায় উইকেটের পেছনে। নিজেকে শূন্যে ভাসিয়ে মুশফিক বল তালুবন্দি করেন। লাঞ্চ থেকে ফিরে অর্ধশতক তুলে নেয়া স্মিথকে ফেরান তাইজুল। দুর্দান্ত আর্ম বলে অজি কাপ্তানকে বোল্ড করেন।
স্মিথ (৫৮) ফেরার আগে ৯৩ রানের জুটি গড়ে যান। থেকে যাওয়া ওয়ার্নার হ্যান্ডসকম্বকে নিয়ে দিন পার করে দেন। মুশফিক একটি স্টাম্পিংয়ের সুযোগ হাতছাড়া না করলে ওই ওয়ার্নার-চিন্তা নিয়ে ফিরতে হতো না। শেষ বিকেলে মিরাজের নিচু হওয়া এক বল ডাউন দ্য উইকেটে এসে খেলতে যেয়ে মিস করেন ওয়ার্নার। অনেক দূর উঠে আসেন। মুশফিক বল আয়ত্ত্বে নিতে ব্যর্থ হন!
দিনের খেলা যখন পাঁচ/ছয় ওভার বাকি, তখন হ্যান্ডসকম্ব-ওয়ার্নার সময় নষ্ট করার কৌশল অবলম্বন করেন। পানি পানের জন্য সতীর্থকে ডেকে ঘাড়ে বরফ লাগান। সবুজ ঘাসের ওপরে ‘বিশ্রাম’ও নেন!
ছবি: সাকিব উল ইসলাম









