কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে এক দম্পতিকে নাজেহাল করা এ এসএই মাসুদকে ক্লোজড করে ঘটনা তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি করেছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।একই সঙ্গে দোষী প্রমাণিত হলে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বরখাস্তসহ যে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে পর্যটকদের স্বার্থই আগে দেখার অঙ্গীকার করা হয়েছে পুলিশের এ ইউনিটের পক্ষ থেকে।
মঙ্গলবার দুপুরে নিজেদের ফেসবুক পেজে ট্যুরিস্ট পুলিশ জানায়, গতকাল (সোমবার) বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার নিউজটি (পর্যটক দম্পতিকে নাজেহাল সম্পর্কিত) আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই ঘটনা তদন্তে ১জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে ১ জন সহকারী পুলিশ সুপার নিয়ে ২ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিঠি গঠন করা হয়েছে। এ এসআই মাসুদকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
‘‘তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনা সত্যি হলে তাকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেয়া হবেনা। আমাদের কাছে পর্যটকদের স্বার্থ সবার আগে’’ বলা হয় ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে।

রোববার সন্ধ্যায় সৈকতে কিটকট চেয়ারে বসে রাতের সমুদ্র উপভোগ করতে গিয়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের হাতে সস্ত্রীক নাজেহাল হন কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকার বাসিন্দা এনজিও কর্মকর্তা ও সেনা শাখা বিএনসিসির সাবেক ক্যাডেট এম কায়দে আজম।
বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগটি পেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপিকে নির্দেশনা দেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এম কায়দে আজম সন্ধ্যার পর সস্ত্রীক সৈকতে বেড়াতে গিয়ে লাবণী পয়েন্টে চেয়ারে বসেন। রাত ৮টার দিকে ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তা এ এসআই মো. মাসুদসহ ৩ কর্মকর্তা এসে তারা স্বামী-স্ত্রী কি-না জানতে চান। হ্যাঁ সূচক উত্তর পাওয়ার পরও এর প্রমাণ দেখাতে বলেন। তা না পারলে পরিবারের লোক এনে পরিচয় নিশ্চিত করতে বলেন। স্থানীয় অধিবাসী এবং এনজিও কর্মকর্তা পরিচয় দেয়ার পর নানা বাকবিতণ্ডায় অশালীন আচরণে অন্যান্য পর্যটকদের সামনে তাদেরকে (স্বামী-স্ত্রীকে) নাজেহাল করা হয়।
অভিযোগকারী মো. কায়েদে আজম সাংবাদিকদের বলেন, রোববার রাত ৮ টার দিকে স্ত্রীসহ আমি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টের পর্যটক চেয়ারে বসে সময় কাটানোর এক পর্যায়ে ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তা এএসআই মো. মাসুদসহ ৩ জন পুলিশ সদস্য এসে আমরা স্বামী-স্ত্রী কিনা জানতে চান। স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলে তাৎক্ষণিক কাবিন নামা দেখতে চাওয়া হয়। তা দেখাতে না পারায় আমাদের দীর্ঘক্ষণ আটকিয়ে রাখেন। সমুদ্র সৈকতে অন্যান্য পর্যটকদের সামনে আমাদের স্বামী-স্ত্রীকে নাজেহাল করা হয়। পরে আমাদের সংবাদ পেয়ে কক্সবাজারে অবস্থান করা আমাদের অপর দুই আত্মীয় এসে আমাদের স্বামী-স্ত্রী বলায় ২ ঘন্টা পরে আমাদের ছাড়া হয়।
পুলিশের এমন কার্যকলাপে পুরো পর্যটন শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাকের আহমেদ।
এ পর্যটন বিশেষজ্ঞ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বেড়াতে আসা লোকজন পুলিশের কাছে যদি হেনস্তার শিকার হন, তাহলে পর্যটকরা কক্সবাজার বিমুখ হতে পারেন; যার নেতিবাচক প্রভাব পুরো পর্যটন শিল্পে পড়তে পারে।
তিনি আরো বলেন,পুলিশের কাজ নিরাপত্তা দেওয়া। ঘুরতে আসা সবাইকেই যে স্বামী-স্ত্রী হতে হবে এমন কোন কথা নেই। ভাই-বোন হতে পারে, আত্মীয়-স্বজন হতে পারে এমনটি বন্ধু-বান্ধবও হতে পারে। তা দেখার দায়িত্বতো পুলিশের না। তারা কেন সম্পর্কের জের ধরে হেনস্থা করতে যাবেন?’
এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ পর্যটন শিল্পের স্বার্থে ট্যুরিস্ট পুলিশের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার ওপরও জোর দেন তিনি।











