বাংলাদেশের ওষুধ, বর্জ্য থেকে জ্বালানী উৎপাদন ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যসহ বেশ কয়েকটি খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়া।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সঙ্গে মালয়েশিয়ার কুচিং চাইনীজ জেনারেল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’র প্রতিনিধিদলের একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব আগ্রহের বিষয়ে জানান মালয়েশিয়ার কৃষি আধুনিকায়ন বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ওয়াই বি এনসিক ম্যালকম মুসেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা খুবই আশাব্যাঞ্জক। আমরা বাংলাদেশের ওষুধ, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, বর্জ্য থেকে জ্বালানী উৎপাদন, দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত করণ ডিজিটাল অর্থনীতি (অনলাইন ব্যবসা) ও কৃষি পণ্য উৎপাদন গবেষণা (ধান) এসব খাতে বিনিয়োগ করতে চাই।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশে উৎপাদিত পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে ম্যালকম মুসেন বলেন, পাটপণ্য ছাড়াও কৃষিজাত পণ্য, মশলা, আসবাবপত্র, নির্মাণ সামগ্রী এবং ডেইরি জাতীয় পণ্যের চাহিদা রয়েছে।
বাংলাদেশের বেসরকারি ওষুধ কোম্পানি ইনসেপ্টার সুনাম করে মালয়েশিয়ার সহকারী মন্ত্রী বলেন, আমরা ইনসেপ্টা কোম্পানি পরিদর্শন করেছি। সেখানে পণ্য উৎপাদনের পরিবেশ অনেক উন্নতমানের। ওষুধ উৎপাদনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এখাতেও আমরা বিনিয়োগে আগ্রহী।
মালয়শিয়ার ৪০ সদস্য বিশিষ্ট প্রতিনিধিদলের নেতা ড. ক্রিস্টোফার গুই সু লিং বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নে দু’দেশের চেম্বারগুলোর যোগাযোগ আরোও বৃদ্ধি করা দরকার।
মালয়েশিয়ায় রপ্তানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং পণ্যের গুণগতমান নিশ্চিত করার বিষয়ে বাংলাদেশী উদ্যোক্তাদের আরো মনোযোগী হওয়ার আহবান জানান তিনি।
সভায় এফবিসিসিআইর প্রথম সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশে মালয়শিয়ার বিনিয়োগ ছিল ১১২ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার। আশাকরি এই বিনিয়োগ আরো বাড়বে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের জন্য বিদেশীদের জন্য অনেক সুযোগ রয়েছে। এখানে গ্যাস-বিদ্যুৎসহ সব ধরনের সুবিধা থাকবে। নির্বিগ্নে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীরা এসব অঞ্চলে বিনিয়োগ করতে পারবে। কারণ বাংলাদেশে রয়েছে সস্তা শ্রম, অর্থনৈতিক অঞ্চলে শুল্ক ফ্রি ও বিনিয়োগযোগ্য পরিবেশ।
এ সময় শফিউল ইসলাম মালয়েশিয়ার উদ্যোক্তাদের জ্বালানি, ওষুধ, জাহাজ-নির্মান, ইলেকট্রনিক্স, তথ্য-প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
২০১৫-১৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যেখানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করেছে ১৯১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আর আমদানি করেছে ৯৫৬ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য।








