জোলি আর পিটের সংসারে ভাঙনের খবর চাউর পুরো গণমাধ্যমে। দীর্ঘ বারো বছরের সংসার আর ছয় ছয়টি সন্তান রেখে দুজনের আলাদা হতে চাওয়ার খবর যেন জন্ম দিয়েছে নতুন আলোচনার। এবার এই সম্পর্কের ভাঙন নিয়েই ফেসবুকে পোস্ট দিলেন লেখক অদিতি ফাল্গুনী।
ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, জেনিফার এ্যানিস্টনের সংসার যেদিন ভেঙ্গে গেল ব্র্যাড পিটের সাথে…এ্যাঞ্জেলিনা জোলির জন্যই…তারপর ধূসর অনেকগুলো বছর একা পার করলেন তিনি। হলিউডের অত বড় অভিনেত্রী হলে কি হবে- সবার চোখে তিনিতো তখন এক ‘পরিত্যক্ত’ নারী- সবার সমবেদনা আর করুণার পাত্রী। দমে গেলেন না। কাজ চালিয়ে গেলেন। গত বছর নতুন এক সাথীর সাথে ঘরও বাঁধলেন। এদিকে ক্যান্সারের সাথে দীর্ঘ লড়াই, ব্র্যাডের সাথে তিনটি জৈবিক ও তিনটি পালিত সন্তান নিয়ে বারো বছর ঘর করার পর ব্র্যাডের পানাসক্তি বা জলির ধূমপান…ইত্যাদি ইত্যাদি অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে ঘর ভাঙ্গলো তাদের।
এরপরে অদিতি ফাল্গুনী লিখেছেন, আজ কেমন লাগছে জেনিফারের, পিটের আর জোলির? খেলাঘর বাঁধতে লেগেছি আমার মনের ভেতরে। সবটাই কি টোরভাল্ড আর নোরার পুতুল খেলার ঘর? যে আমার নতুন খেলার জন/তারি লাগি পাতি সিংহাসন। কে কার জন্য সিংহাসন পাতে বা পাতছে কে জানে? তাই বলে পিট আর জোলির জীবনের তিনজন জৈবিক সন্তান বা বায়োলজিক্যাল চাইল্ড কি একসাথে কাটানো অনেক সুখ-দু:খের সময়, এমনকি জোলির স্তন বা গর্ভাশয় অপসারণের সময় ব্র্যাডের পাশে থাকা…সে মূহুর্তগুলো কিছুতেই তুচ্ছ হবে না।
এরপরে অদিতি ফাল্গুনী লিখেছেন, অন্যদিকে এ্যানিস্টনের জন্য এটা কি ‘কসমিক জাস্টিস’ বা ‘নাক্ষত্রিক ন্যায়বিচার?’ নাক্ষত্রিক ন্যায়বিচার প্রচুর ঘটে যায় আমাদের জীবনেই। হয়তো অনেক অন্যায় করেও দিব্যি কেউ সুখী বা সফল। আপনি বিনা দোষে নানা জায়গায় দন্ডিত হচ্ছেন, কথা শুনছেন, ভুল বোঝার শিকার হচ্ছেন যদিও জ্ঞানত: কারো সাথেই কোন পাপ আপনি জেনে-বুঝে আজো করেন নি। নিজে বরং বহু ষড়যন্ত্র, বহু সিন্ডিকেটবাজির শিকার হয়েছেন। বহু বছর পর হয়তো একদিন সেই খুব সুখী বা সফল মানুষের খুব পুরনো কোনো অন্যায় (যা এতদিন তার ক্ষমতার কারণে চাপা পড়ে ছিল) সামনে চলে আসছে…তার তুলনায় সামাজিক ক্ষমতাহীন আপনাকে তুচ্ছ পাঁচের জন্য পাঁচ কোটির দণ্ড দেবার বিষয়গুলো সত্যি ভারি খেলো আর হাস্যকর হয়ে দাঁড়ায়। আর কিছু না হোক নিজের বিবেকের কাছে আপনি জানেন আপনি পাপ করেন নি। দিনের শেষে এটাই হয়তো কসমিক জাস্টিস।







