আমেরিকার দুই প্রভাবশালী আইনপ্রণেতার নেতৃত্বে দু’টি দল যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এ একটি নতুন আইন প্রস্তাব করেছে। আইনটিতে পাকিস্তানকে ‘জঙ্গিবাদে অর্থদাতা রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করার কথা বলা হয়েছে।
‘পাকিস্তানের বিশ্বাসঘাতকতার মূল্য আমরা আর শোধ করতে পারি না। দেশটি বাস্তবে যা, সেই নামেই তাকে আমাদের আখ্যায়িত করতে হবে: জঙ্গিবাদে অর্থদাতা একটি রাষ্ট্র,’ যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ সাব-কমিটি অন টেরোরিজমের প্রধান ও কংগ্রেসম্যান টেড পো।
রিপাবলিকান দলের সদস্য পো আরেক কংগ্রেসম্যান ডেমোক্র্যাট ডানা রোহরাবাখারের সঙ্গে মিলে ‘পাকিস্তান জঙ্গিবাদে অর্থদাতা রাষ্ট্র আখ্যাদান আইন’ (HR 6069)।
পো বলেন, ‘পাকিস্তান শুধু একটা বিশ্বাসের অযোগ্য বন্ধুই নয়, ইসলামাবাদ বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের লালনপালন করে আসছে। ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয়দান থেকে শুরু করে হাক্কানি নেটওয়ার্কের
সঙ্গে মধুর সম্পর্ক – জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তান যে কার দলে আছে তা প্রমাণ করতে এই প্রমাণগুলো যথেষ্টরও বেশি।’
তবে এই আইন পাস হওয়ার জন্য ওবামা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। আইন প্রস্তাবের ৯০ দিনের মধ্যেই আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদে পাকিস্তান অর্থ ও সমর্থন দিয়েছে কিনা এ ব্যাপারে নিশ্চিত করে প্রেসিডেন্টকে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।
পো জানান, সেই প্রতিবেদনের ৩০ দিন পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরও একটি ফলোআপ প্রতিবেদন দিতে হবে। সেখানে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে পাকিস্তান আসলেই জঙ্গিবাদের রাষ্ট্রীয় অর্থদাতা। অথবা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে কেন পাকিস্তান এই আখ্যা পাওয়ার যোগ্য নয়।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ চেয়েছিলেন জম্মু কাশ্মির ইস্যুতে ভারতের মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং পাকিস্তানের অধিকারের প্রসঙ্গ তুলতে। এছাড়াও কথা ছিল নিজস্ব নিউক্লিয়ার অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা।
কিন্তু কাশ্মিরে জঙ্গি হামলার পর সেই চেষ্টা ভেস্তে গেল। শুধু মার্কিন আইনপ্রণেতাদের আইন প্রস্তাবই নয়, পশ্চিমা আলোচকরা সরাসরিই নওয়াজ শরীফকে বললেন বারবার ভারতের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় না গিয়ে আগে নিজেদের জঙ্গি পালনের সমস্যার দিকে নজর দিতে।
এমনকি পাকিস্তানের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে পরিচিত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধেই কথা বললেন। কেরি-শরীফ বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা যেন পাকিস্তানকে নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার না করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা দেশটির জন্য জরুরি।
অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকারের বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও জাতিসংঘ সাধারণ সচিব বান কি-মুন জম্মু কাশ্মির বিষয়ে কোনো বক্তব্যই রাখেননি নিজের উদ্বোধনী বক্তব্যে। তবে আগামী সপ্তাহে সাধারণ অধিবেশনে উরি সেনা ঘাঁটিতে হামলা প্রসঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক হামলা করতে তৈরি হয়ে আছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।







