বাবার ছোঁড়া এসিডে ঝলসানো সীমা দারিদ্রতাকে জয় করে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় পেয়েছে জিপিএ ফাইভ। এক সময় কোনো স্কুল তাকে ভর্তি করতে রাজি না হওয়া সীমা এখন এলাকার বাতিঘর। তবে তার চলা পথ এখনোও বেশ কঠিন।
নয় মাস বয়স থেকেই লাড়াই শুরু সীমার। ওর মা মীরাজ বিবি কন্যা সন্তান জন্ম দিয়েছে এটা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারেনি বাবা আব্দুর মোতারিবের পরিবার।
রাগে ক্ষোভে সীমা ও তার মাকে হত্যা করতে এসিড ছোড়ে সে। এরপর থেকে শুরু আরো কঠিন বাস্তবতা।
হবিগঞ্জ থেকে যখন ঢাকার কাড়াই বস্তিতে সীমা আসে তখন ওর বয়স মাত্র ৫। প্রথম বিপত্তি দেখা দেয় স্কুলে ভর্তি হতে গিয়ে। এসিড ঝলসানো চেহারার কারণে কোনো স্কুলই ভর্তি নিতে রাজি হয়নি সীমাকে।
২০১২ সালের শুরুর দিকে চ্যানেল আই এ নিয়ে রিপোর্ট প্রচার হয়। রিপোর্ট প্রচারের পর একদল উদ্যমী তরুণের সহায়তায় ঝিগাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভর্তি করতে রাজি হয় অদম্য এই শিক্ষার্থীকে।
এখানে এক বছর লেখাপড়ার পর সীমা ও তার মা চলে যায় নিজ জেলা হবিগঞ্জের উছাইল গ্রামে। সীমাকে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয় একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
দরিদ্র হলেও শ্রেণীতে সব সময় প্রথম সীমা। কয়েক দিন আগে প্রকাশিত পিইসি পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পেয়েছে সীমা। সীমার স্বপ্ন আকাশটাকে ছোঁয়া।







