স্পিনঘূর্ণির পিচে আফগানিস্তান যখন অলআউট হতে হতে ৩৪২ রানে পৌঁছাল, আশঙ্কার মেঘ তার আগে থেকেই ঘনত্ব বাড়াচ্ছিল বাংলাদেশের ব্যাটিং আকাশে। সেটা বেড়ে চাপের রাস্তায় হাঁটতে শুরু করেছে। স্বাগতিকরা যে ব্যাটিংয়ে শুরু থেকেই ধুঁকছে। দলীয় সংগ্রহ একশই ছোঁয়নি, সাজঘরে টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যান।
আফগানিস্তান: প্রথম ইনিংস-৩৪২/১০, বাংলাদেশ: প্রথম ইনিংস-৮৮/৫ (৩৩)
চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে লাঞ্চের আগেই সফরকারীদের অলআউট করে বাংলাদেশ। ব্যাটিংয়ে এসে আবার কোনো রান যোগ করার আগেই হারায় নিজেদের প্রথম উইকেট। বাজে শটে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফেরেন সাদমান ইসলাম। ইয়ামিনের অফস্টাম্পের বাইরের বেরিয়ে যেতে থাকা ডেলিভারিতে খোঁচা দিয়ে ফেঁসে যান রানের খাতা খোলার আগেই!
লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ওভারে নবির বলে লিটন দাসকে এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার। নাইজেল লংয়ের সেই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেন লিটন। রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। সৌম্য সরকারের সঙ্গে পরে জুটিতে ভালোই জমছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে দুজনেই ফিরে গেলে বিপদে পড়ে টাইগাররা।
প্রথমে ফেরেন সৌম্য সরকার। নবির জোরের উপর ছোঁড়া এক বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে লাইন গড়বড় করে এলবিডব্লিউ হন ৬৬ বলে ১৭ করে টেস্টের মতোই খেলতে থাকা সৌম্য। তখন ভেঙে যায় ৩৮ রানের সম্ভাবনার জুটিটিও।
কিছুপর নিজের সম্ভাবনার ইনিংসে অপঘাত পরিণতি ডেকে আনেন লিটন দাস। দৃষ্টিকটু শটে রশিদ খানকে দিয়ে আসেন উইকেট। আফগান অধিনায়কের প্রথম ওভার ছিল সেটি, তার লেংথ বলে পুল খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে ডানহাতি ব্যাটসম্যান দেখেন স্টাম্প এলোমেলো। ৬৬ বলে ৩৩ রানের ইনিংসটি ততক্ষণে হিমঘরে।
সেখান থেকে মুমিনুল হক ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সেটা দীর্ঘ হয়নি সাকিব রশিদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলে। ১১ রানে থাকা বাংলাদেশ অধিনায়ক রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। লেগ-মিডলে পিচ করা বল যে সোজা গিয়ে স্টাম্পেই আঘাত হানছিল।
সাকিবের ফেরা যদি চাপ বাড়িয়ে থাকে। তার এক বল পর মুশফিকুর রহিমের আউট তৈরি করেছে মহাচাপ! মিডলঅর্ডারের ভরসা যে রানের খাতাই খুলতে পারেননি। রশিদেরই এক ডেলিভারি দেখেশুনেই খেলেছিলেন মুশি, কিন্তু বল তার ব্যাট ছুঁয়ে জুতোর মাথায় বাউন্স খেয়ে চলে যায় নিকটে ওঁত পেতে থাকা ইব্রাহিমের তালুতে। ভরসার পঞ্চম উইকেটের পতন!
সকালে তাইজুল ও সাকিবের জোড়া সাফল্যের সঙ্গে মিরাজের এক উইকেটে আফগানিস্তানকে থামানো যায় সাড়ে তিনশর আগেই। এদিন শেষ পাঁচ উইকেটে আর ৭১ রান যোগ করতে পেরেছে সফরকারীরা। তাইজুল ৪টি, সাকিব-নাঈম নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।








