আকাশে ওড়ার স্বপ্ন মানুষের বহুদিনের। বিমানে চড়েও সে শখ পুরো মেটেনি। তাদের দরকার উড়ন্ত গাড়ি! গাড়িকে কীভাবে ওড়ানোর ব্যবস্থা করা যায়, বা কম দূরত্বে চলাচলের জন্য গাড়ির মতো ছোট কোনো উড়াল যান তৈরি করা যায় কিনা, বহু আগে থেকেই সে চেষ্টা চলছে। এবার তার ফল হিসেবে এলো মানুষ বহনে সক্ষম ড্রোন।
সিঙ্গাপুরের একটি গবেষক দল এবার তৈরি করেছে ব্যক্তিগত ব্যবহারের উপযোগী এক ধরণের উড়াল যান, যার নাম রাখা হয়েছে ‘স্নোস্টর্ম’। বিশাল ড্রোনের মতো দেখতে এই যানটিতে একজন মাত্র বসতে পারে। ষড়ভূজাকৃতির কাঠামোয় বসানো ২৪টি প্রপেলারের সাহায্যে উড়তে পারে এটি।
অবতরণের সময় যেনো ঝাঁকি না খেতে হয়, সেজন্য এর ল্যান্ডিং গিয়ারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ৬টি বাতাস ভরা ‘ল্যান্ডিং বল’।
তবে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের গবেষক দলের ডিজাইন করা ড্রোনটি আপাতত শুধু ঘরের ভেতর উড়তে সক্ষম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রকল্পটির সুপারভাইজার ড. জোয়ার্গ ওয়েইগল বলেন, ‘বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীগুলোতে প্রচলিত একটি সাধারণ ধারণা হলো এমন কোনো ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মানুষ নিজে নিজেই উড়তে পারে। আমাদের স্নোস্টর্ম দেখিয়ে দিয়েছে এ ধরণের ব্যক্তিগত উড়াল যান বাস্তবেও সম্ভব, যার প্রাথমিক উদ্দেশ্যই থাকবে আমাদের আকাশে ওড়ার স্বপ্ন সত্যি করা।’
বিদ্যুৎ চালিত যানটি আপাতত শুধু ঘরের ভেতর মিনিট পাঁচেক একটানা উড়তে পারে। ফলে পরীক্ষামূলক প্রকল্প বা প্রটোটাইপটি এখনো বাস্তবের ব্যবহারযোগ্য উড়াল যান হয়ে উঠতে দেরি আছে।
শুধু তাই নয়, স্নোস্টর্মের ডিজাইনটিও বেশ বিপজ্জনক। কাঠামোটিতে যাত্রীর চারপাশে ঘুরতে থাকা প্রপেলারের ধারালো ব্লেডগুলো থেকে যাত্রীর সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। সামান্য দুর্ঘটনা বা যান্ত্রিক ত্রুটিতেও ব্লেড উড়ে গিয়ে মারাত্মক কিছু ঘটে যেতে পারে।
তবে যতো যা-ই হোক, স্নোস্টর্ম ভবিষ্যতে ব্যবহারযোগ্য উড়াল যান তৈরির পথে আশার আলো দেখায়। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বাস্তবে এ ধরণের যান যে সত্যিই তৈরি করা সম্ভব এখান থেকে তার অনুপ্রেরণা নিয়ে বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা সে কাজে আরো আগ্রহী হবেন বলে আশা করছেন স্নোস্টর্ম নির্মাতারা।






