অন্যবারের মতো হচ্ছে না। প্রায় প্রতিদিনের ইফতার পার্টির রাজনীতিতে এবার যাচ্ছে না বিএনপি। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সাকূল্যে চারটি ইফতার পার্টির আয়োজন করবেন। আর যোগ দেবেন জামায়াতসহ তিনটি দলের ইফতার পার্টিতে।
তবে এই জামায়াত জটিলতায় বেগম জিয়ার রোববারের ইফতারে আওয়ামী লীগের না যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির নবরাত্রি হলে ওই ইফতারে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারিদলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
কিন্তু ২০ দলের শরিক হিসেবে জামায়াতও আমন্ত্রিত থাকায় আর জামায়াতের কেউ কোনো অনুষ্ঠানে থাকলে সেখানে আওয়ামী লীগের না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আছে। গত কয়েক বছর বেগম জিয়ার কোনো ইফতার মাহফিলে তাই আওয়ামী লীগ নেতারা যোগ দেননি।
‘এটা আমাদের নীতিগত অবস্থান,’ বলে মন্তব্য করলেন আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন।
এ বিষয়ে বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বে থাকা দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আসা না আসা বড় কথা নয়। রাজনৈতিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর জন্য আমরা আওয়ামী লীগকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। আমরা আশা করছি যে তারা যোগ দেবেন।
কয়েকদিন আগেই আসাদুজ্জামান রিপন আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডি কার্যালয়ে দলের উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের কাছে শেখ হাসিনার জন্য খালেদা জিয়ার আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন।
আওয়ামী লীগকে বিএনপি ইফতারে দাওয়াত জানালেও ১৪ দলের অন্য শরিক এবং বামপন্থীদের আমন্ত্রণ জানায়নি সংসদের বাইরে থাকা বৃহত্তম বিরোধীদল।
রাজনীতিকদের জন্য ইফতারের আয়োজনসহ এবারের রোজায় বেগম জিয়া মোট চারটি ইফতার মাহফিলের আয়োজন করছেন। এর প্রথমটি ছিলো প্রথম রোজায়। সেদিন আলেম এবং এতিমদের সঙ্গে তিনি ইফতার করেছেন।
এর বাইরে বসুন্ধরার নবরাত্রি হলেই পেশাজীবী এবং বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে তিনি ইফতার করবেন ২২ জুন। পরদিন ওয়েস্টিন হোটেলে বিদেশী কূটনীতিকদের ইফতারে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন।
এর বাইরে কেন্দ্রীয় বা মহানগর বিএনপি কিংবা দলের অন্য কোনো সহযোগী বা অঙ্গ সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ইফতার পার্টির আয়োজন করবে না। এজন্য সরকারের ‘হামলা-মামলা-জুলুম-নির্যাতন’কে দায়ী করেছেন দলের একাধিক নেতা।
নিজের চারটি ইফতার ছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াত, বিকল্পধারা এবং এলডিপির ইফতারে যোগ দেবেন বিএনপি চেয়ারপার্সন। সাংবাদিক এবং পেশাজীবীদের আমন্ত্রণেও একটি ইফতার পার্টিতে যোগ দিতে পারেন বেগম খালেদা জিয়া।







