ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় বন্দুকধারীর গুলি ও বোমা হামলার সঙ্গে প্যারিস হামলার মিল রয়েছে বলে মনে করেন ইন্দোনেশিয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। সকালে গুলি বর্ষণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া হামলা শেষ হয়েছে ছয়টি বোমার বিস্ফোরণে।
৫ হামলাকারীসহ নিহত হয়েছে ৭ জন। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে, তবে সর্বোচ্চ সতর্কতায় জাকার্তা টহল দিচ্ছে ইন্দোনেশিয় নিরাপত্তা বাহিনী।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয় এই হামলার সঙ্গে ইসলামিক স্টেট জঙ্গিরাই জড়িত। দিনের শেষে এই ধারণাকেই সত্য প্রমাণ করেছে আইএসের দায় স্বীকার।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র জানান,‘ আইএস সংশ্লিষ্ট কোনো ইন্দোনেশিয় জঙ্গি গোষ্ঠীই এই হামলা চালিয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। আমরা আজ যেরকম হামলা দেখেছি সেটা অনেকটাই প্যারিস হামলার মতো।
পুুলিশের বর্ণনায় জাকার্তা হামলা:
১৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে ৩ জন আত্মঘাতী বোমারু এবং ২ জন পিস্তলধারী হামলা শুরু করে। প্রথমে পশ্চিমা কফিশপ ‘স্টারবাকস’ এর ঠিক বিপরীতের একটি শপিং মলে শরীরে বেঁধে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এক জঙ্গি।
বিস্ফোরণের পর বাইরে থাকা দুই বন্দুকধারী গুলি চালানো শুরু করে। তারা স্টারবাকসে ঢুকে একজন আলজেরিয় নাগরিক ও নেদারল্যান্ডসের একজনকে জিম্মি করে। একপর্যায়ে নেদারল্যান্ডসের ওই নাগরিককে গুলি করে হত্যা করে তারা। তাকে বাঁচানোর চেষ্টায় এক ইন্দোনেশিয় নাগরিককেও প্রাণ দিতে হয় জঙ্গিদের হাতে। আহত হন ওই আলজেরিয় নাগরিক।
এরপর পুলিশের অভিযানে হামলাকারীরা নিহত হয়।এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরও দুই হামলাকারী একটি মোটরসাইকেলে করে পুলিশ পোস্টে গিয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। এতে চার পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন।
আত্মঘাতী বোমা ছাড়াও হামলাকারীদের কাছে আরও চারটি বোমা ছিলো বলে জানান পুলিশের মুখপাত্র। এর মধ্যে জঙ্গিরা দু’টির বিস্ফোরণ ঘটাতে পারলেও সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেনি বলেও জানান তিনি।
আইএসের হুমকি, অতঃপর হামলা:
নতুন বছরের শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে ইন্দোনেশিয়াকে ইঙ্গিতপূর্ণ এক বার্তা দিয়েছিলো আইএস। তাতে বলা হয় ‘ইন্দোনেশিয়ায় কনসার্ট হবে’।
এরকম হুমকিতে থার্টি ফার্স্ট আয়োজন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয় পর্যটনকেন্দ্রীক দেশটিতে। এছাড়াও ডিসেম্বরেই কয়েকটি জঙ্গি হামলা নস্যাৎ করে দেয় দেশটির পুলিশ।






