জয়পুরহাটে কোটি টাকা ব্যয়ে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণের এক দশক পরও চালু হয়নি টার্মিনালটি। শহরে চলাচলের একমাত্র সড়কের উপর যত্রতত্র থেমে থাকছে ট্রাক। যানজটে পড়ে নাকাল শহরবাসী।
শহর থেকে দুই কিলোমিটার দূরে ছয় একর জায়গার ওপর ১ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় জয়পুরহাট ট্রাক টার্মিনাল। ২০০৫ সালের ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে টার্মিনালটির যাত্রা শুরু হয়। পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও দীর্ঘ এক দশক ধরে এ টার্মিনালটি ব্যবহার না করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ট্রাক দাড় করিয়ে রাখছেন ট্রাক মালিকরা।
স্থানীয় একজন ট্রাক শ্রমিক বলেন, ট্রাক মালিকগণ ১০-২০ টাকা পৌর টোল থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য টার্মিনালে ট্রাক রাখেন না। স্কুলের সামনে সবসময় ট্রাকের ভীড় থাকে উল্লেখ করে স্থানীয় এক স্কুল শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, এতে করে চলাচলের অসুবিধা হয়।
শ্রমিকদের সাথে ট্রাক মালিক ও পৌর মেয়রের সমন্বয়হীনতার কারণেই টার্মিনাল চালু হচ্ছে না বলে মনে করছেন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
জয়পুরহাট ট্রাক ও ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, জয়পুরহাট জেলা ট্রাক মালিক সমিতি সক্রিয় নয়। এদের সাংগঠনিক কোন কর্মকান্ড নেই বিধায় উনারা কোন নিয়ম নীতি না মেনে যত্রতত্র তাদের বাড়ির সামনে, বিভিন্ন পাম্পে, বিভিন্ন রাস্তাঘাটে, বিভিন্ন জায়গায় এই গাড়ি পার্কিং করে।
শহরের যানজট নিরসনে ট্রাক টার্মিনালটি পুনরায় সচল করার আশ্বাস দিয়েছেন নবনির্বাচিত পৌর মেয়র।
জয়পুরহাট পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, আমি যেদিন থেকে দায়িত্বভার নেবো জয়পুরহাট শহরের মধ্যে কোন ট্রাক দিনের বেলা ঢোকার কোন সুযোগ নাই। সব ট্রাকগুলো ট্রাক টার্মিনালে রাখা হবে। রাতের বেলা শহরে ঢুকে মাল লোড-আনলোড হবে।
পৌর চেয়ারম্যানের এ আশ্বাস দ্রুত কার্যকরের মাধ্যমে একটি যানজটমুক্ত শহর উপহার দেয়ার পাশাপাশি জনদূর্ভোগ নিরসনে আন্তরিক হবেন এমন প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।






