গ্রামীণ অবকাঠামোসহ সব ধরনের নির্মাণের ক্ষেত্রে খরচ, কাজ শুরু ও শেষের তারিখসহ বিস্তারিত তথ্য নিয়ে বোর্ড টানানোর বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে মাস্টারপ্লান তৈরিরও তাগিদ দেন তিনি।
প্রায় প্রতি একনেক বৈঠকেই গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয়-বরাদ্দ অনুমোদন দেয়া হয়। সর্বশেষ বৈঠকে বরাদ্দ সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকাই যাবে স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করাসহ গ্রামীণ এলাকার রাস্তা, হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠার উন্নয়নে।
এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন নির্মাণ সম্পর্কিত ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানসাধারণকে জানাতে হবে।
এদিন ৮ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ হাজার ৫৫০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৯ হাজার ১৯২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৮৭৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ২ হাজার ৪৮৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা পাওয়া যাবে।
একনেকের বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সভায় ৫ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে লোকাল গভর্ন্যান্স সাপোর্ট প্রজেক্ট-৩ (এলজিএসপি) এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
মোট প্রকল্প ব্যয়ের ৩ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা সরকার বহন করবে। বাকি ২ হাজার ৩৮২ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য হিসেবে বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া যাবে। জানুয়ারি, ২০১৭ থেকে ডিসেম্বর ২০২১ মেয়াদকালে এটি বাস্তবায়িত হবে।
মুস্তাফা কামাল জানান, প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অধিকতর উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা প্রনয়ণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে প্রকল্প এলাকায় সাইনবোর্ড টানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি এখন অত্যন্ত চমৎকার বর্ণনা করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি সৌদি পত্রিকায় লেখা হয়েছে- সেখানকার ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান। তারা কেউ কেউ বাংলাদেশকে সেকেন্ড হোম ভাবছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি সফরের পর সেখানে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পসমূহ হলো, জলবায়ু সহনশীল গ্রামীণ অবকাঠামো প্রকল্প- এর ব্যয় ধরা হয়েছে, ৪১৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। খুলনা বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প- এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৬৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), মিরপুর সেনানিবাস এর অবকাঠামোগত সুবিধা সম্পসারণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৪২১ কোটি ৯ লাখ টাকা। অন্যান্য আবাসিক এলাকার উন্নয়ন (২য় পর্যায়), এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৮৩২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
এছাড়া নাটোর রোড (রুয়েট) হতে রাজশাহী বাইপাস পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প- এর ব্যয় ধরা হয়েছে- ১৩৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। বরিশাল ও সিলেট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং রেঞ্জ রিজার্ভ লাইন নির্মাণ প্রকল্প- এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। পটুয়াখালী-পায়রা ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রকল্প- এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩৬ কোটি ১ লাখ টাকা।
একনেক বৈঠকে মন্ত্রী পরিষদের সদস্যগণ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।







