ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর-মন্তরে টানা ২০ দিন ধরে অনশনরত পরিবেশ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) ভোরে পুলিশ সেখানে পৌঁছে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াংচুক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে অনশন করছিলেন। অভিযোগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট (এনইইটি)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মন্ত্রীর নৈতিক দায় রয়েছে।
দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুকের অবনতিশীল শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবার জন্য তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সচেতন রয়েছেন এবং তার শারীরিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে যন্তর-মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়নের সময় কিছু বিক্ষোভকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সামান্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে নিরাপদভাবে পুরো কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।
ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতির বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টে শুনানির আগেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। দুই দিন আগে আদালত তার দৈনিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছিল। আদালত বলেছিল, যে কোনো নাগরিকের জীবন মূল্যবান এবং তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
শুক্রবার ওয়াংচুককে পরীক্ষা করা চিকিৎসকেরা তার অবস্থাকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানান।
নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনেও তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছিল। দুই দিন আগে প্রকাশিত এক মেডিকেল প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি আট কেজির বেশি ওজন হারিয়েছেন এবং তার স্বাস্থ্য দ্রুত অবনতি হচ্ছে।
৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে অনশন শুরু করেছিলেন।
গত কয়েক দিনে বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতা তার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে আন্দোলনস্থলে যান এবং স্বাস্থ্যগত কারণে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা, সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য ডিম্পল যাদব এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ কয়েকজন নেতা গত দুই দিনে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বিক্ষোভকারীরা আগামী ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যন্তর-মন্তরের এই আন্দোলনের সূচনা করে অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। সংগঠনটি ভারতে শিক্ষা খাতে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের নেতৃত্বে চলা এই কর্মসূচির প্রধান দাবি হলো নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মন্ত্রীকে নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করতে হবে।
তবে এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধর্মেন্দ্র প্রধান সিজেপি ও তাদের সমর্থকদের সমালোচনা করে বলেন, তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর সহযোগী এবং দেশের অগ্রগতির ওপর তাদের আস্থা নেই।







