২২ নভেম্বর দেশে চালু হয় স্মার্টফোন অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সি সেবা ‘উবার’ । এই ট্যাক্সি সেবাটিকে ব্যতিক্রমী বলা হচ্ছে কারণ, এ সেবার জন্য উবারের নিজস্ব কোনো ট্যাক্সি নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি আছে এমন যে কেউ অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধনের মাধ্যমে উবারের চালক হয়ে যেতে পারেন। একই অ্যাপ ব্যবহার করে সেবা পাবেন যাত্রীরা।
বাংলাদেশে অ্যাপটি চালু হওয়ার পর জনগণের কাছে বেশ ইতিবাচক সাড়া পায় ‘উবার’। অথচ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এই সেবা শুরুতেই আটকে গেলো অপরিপক্ক, অনভিজ্ঞ কর্তৃপক্ষের রোষানলে। ‘উবার’ সম্পর্কে আদৌ কোনো ধারণা বিআরটিএ’র আছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বেসিস এর সাবেক সভাপতি এবং বিডিজবস-এর সিইও ফাহিম মাশরুর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ UBER কী জিনিস তার সম্পর্কে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের সঠিক কোনো ধারণা নেই I UBER বা এই ধরণের অন্য যে প্লাটফর্ম গুলো আছে তা নিজে কোনো ট্যাক্সি সার্ভিস ব্যবসা নাI UBER একটি কমিউনিকেশন ‘প্লাটফর্ম’ যা গাড়ির ড্রাইভার/মালিককে কোনো একজন সম্ভাব্য ক্রেতার সাথে যোগাযোগ (Connect) করিয়ে দেয়I যতক্ষণ পর্যন্ত UBER গ্রাহক থেকে টাকা নিজের একাউন্ট-এ নিচ্ছে না, ততক্ষন পর্যন্ত টেকনিক্যালি UBER নিজে কোনো ট্যাক্সি/রেন্ট-এ-কার সার্ভিস দিচ্ছে নাI UBER -এর বিজনেস মডেল হচ্ছে ট্যাক্সি বা রেন্ট-এ-কার মালিকদের কাছ থেকে ‘রেফারেল ফী’ বা ‘কমিশন’ নেওয়াI আইনগত ভাবে এক্ষেত্রে অনেক ই-কমার্স/এফ-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘ফেসবুক’ যেমন একটি প্লাটফর্ম (তাদের বিজনেস মডেল হচ্ছে বিজ্ঞাপন নির্ভর- পে পার ক্লিক বা পে পার ইম্প্রেশন), UBER-ও সেরকমই একটি প্লাটফর্ম!
– UBER ভালো করেই জানে এই আইনগত ব্যাপারটিI না জানার কোনো কারণ নেই – তারা গত এক বছর যাবৎ প্রস্তুতি নিচ্ছেI তারা বাংলাদেশের জন্য দুইটি জিনিস করেছে – প্রথমত তারা শুধুমাত্র ‘রেন্ট-এ-কার’ লাইসেন্স যাদের আছে তাদেরকেই রেজিস্টার করিয়েছে গাড়ির মালিক বা ড্রাইভার হিসাবে (আমেরিকা বা ইউরোপের মতো যে কোনো প্রাইভেট কার মালিক বাংলাদেশের উবারে রেজিস্টার করতে পারবে না)I এটি তারা করেছে যাতে যে কোনো আইনগত দায় গাড়ির মালিকের কাছে থাকেI আইনগত ভাবে ‘রেন্ট-এ-কার’ মালিক এই ক্ষেত্রে প্রধান পার্টি – UBER থেকে শুধু প্লাটফর্ম আর রেফারেল সার্ভিস নিচ্ছেI দ্বিতীয়ত, UBER সচেতন ভাবে ক্রেতার সাথে সরাসরি কোনো আর্থিক লেনদেনে যাচ্ছে না (যেটি বিদেশে UBER করে থাকে- ক্রেডিট কার্ড বা মোবাইল পেমেন্ট দিয়ে) I এই দিক থেকেও UBER নিজে কোনো পার্টি নাI
এখন যেটি সম্ভবত হতে যাচ্ছে তা হচ্ছে UBER উচ্চ-আদালত থেকে বিআরটিএ-র এই আদেশকে স্থগিত করাবেI হয়তো UBER নিজেই চেয়েছিলো এরকম একটি আদেশ! নাহলে আমাদের মতো দেশে মাত্র ৩ দিনে সরকারি দপ্তর এতো করিৎকর্মা হয়ে উঠলো কিভাবে!









