উইকেটের কারণেই কি মাত্র দু’ঘণ্টায় ১০ উইকেটের পতন? মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে এমন প্রশ্ন ঘুর-পাক খাচ্ছে ক্রিকেট ভক্ত-বোদ্ধাদের মাঝে। তামিম-মুমিনুলের ব্যাটে একটা সময় মনে হয়েছিলো চট্টগ্রাম টেস্টের মতো সুবিধা করতে পারবেন না স্পিনাররা।
তামিমের বিদায়ের পরই যেনো হঠাৎ পাল্টে গেলো পুরো চিত্র! শেষ ১০ উইকেটের ৭টিই নিলেন স্পিনাররা। তাও মাত্র দু’ঘন্টায়! বৃষ্টির বাধা না থাকলে দিনের বাকি ১১.৩ ওভার বল মাঠে গড়াতে পারলে হিসেবটা হয়তো আরও লম্বা হতে পারতো।
তবে চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী টেস্টেডিয়ামের উইকেট থেকে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেট সব সময় আলাদা হয় বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র স্পোর্টস জার্নালিস্ট সাইদুর রহমান শামিম।
চট্টগ্রামের মাটি থেকে ঢাকার পিচে যে মাটি ব্যবহার করা হয় সেটা সব সময়ই আলাদা হয় উল্লেখ করে সাইদুর রহমান শামিম বলেন: আমরা কী দেখি? চট্টগ্রামের পিচে স্পিনাররা সব সময় প্রথম থেকেই টার্ণ পেতে থাকি। কিন্তু তিন দিন খেলার পর উইকেট আস্তে আস্তে ফ্লাট হয়ে আসে। বোলাররা বাড়ি সুবিধা পায় না। এ কারণেই ইংল্যান্ডে ছুঁড়ে দেওয়া ২৮৩ রানের জয়ের লক্ষ্য আপাত দৃষ্টিতে অসম্ভব মনে হলেও বাংলাদেশ কিন্তু প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছিলো। তারপরেও ২২ রানের হার দেখে বাংলাদেশ।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের উইকেটের পার্থক্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ঢাকার পিচে ধরণটা সব সময় ভিন্ন হয়ে থাকে। এখানে প্রথম দু-তিন দিন খেলা হওয়ার পর চতুর্থ দিনে এসে উইকেট ভাঙতে থাকে। এ কারণে বোলারা বেশি টার্ন পেয়ে থাকেন। বল স্বাভাবিকের থেকে দেরিতে ব্যাটে আসে। সেক্ষেত্রে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে আসা ইংলিশদের টাইগার স্পিনারদের সামনে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে।
মিরপুর টেস্টে প্রথম দিন শেষে সম্পাদকীয়তে জনপ্রিয় ক্রিকেট বিষয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ক্রিকইনফো লিখেছে: মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়, প্রথম ভাগে উদ্ধত ব্যাটে তামিমের শাসন এবং দ্বিতীয় ভাগে বোলারদের শাসন।
প্রথম ৪১ ওভার তামিমের ব্যাটের ওপর ভর করে ইংলিশ বোলারদের শাসন করেছেন টাইগার ওপেনার তামিম ইকবাল। তুলে নিয়েছেন ক্যারিয়ারের ৮তম টেস্ট সেঞ্চুরি। তবে শেষের দিকের ওভারগুলোতে তাকেও বেগ পেতে দেখা গেছে। সেক্ষেত্রে ক্রিকইফো তাদের বিশ্লেষণে ৩৫.২ ওভারের পর থেকেই বোলাররা খেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল বলে উল্লেখ করেছে।
মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে উইকেট পড়েছে মোট ১৩টি। তার মধ্যে ৮টি স্পিনারদের এবং ৫টি পেসারদের দখলে। শেষ ৯৯ রানেই পড়েছে ১২টি উইকেট।









