আসন্ন ঈদে রাস্তার কারণে মানুষের ভোগান্তি হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে এবং জেলা পুলিশ নিরবচ্ছিন্ন কাজ করবে জানিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বলা হয়েছে, যাত্রী সেবায় বিশেষ ট্রেনের পাশাপাশি থাকবে বিশেষ লঞ্চ ও স্টিমার। বাড়ানো হবে ফেরি সংখ্যা।
ঈদের ১০দিন আগে থেকে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে সিএনজি স্টেশন।
ঈদ উল ফিতরের এখনো ২৫ দিন বাকি। এবার ঈদে বাড়ি যাওয়া মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আগেভাগেই প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। তারই অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়।
বৈঠকে রাজধানীবাসীর দুর্ভোগের বড় কারণ মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ নিয়ে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া এবং বৈঠকে আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি শাইখ সিরাজ।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে শাইখ সিরাজ বলেন, আমি না হয় আমার কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি, কিন্তু যে সকল সাধারণ মানুষ ওই অঞ্চলে বসবাস করছে তারা কার কাছে তাদের দুর্ভোগের কথা জানাবে!
গত তিন বছর ধরে মগবাজার মৌচাক ফ্লাইওভারের কাজ চললেও তা শেষের তো কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না, উল্টো জনদুর্দশা বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মৌচাক থেকে মগবাজার আসতে আমার ৫০ মিনিট লেগে গেলো। কিন্তু যে লোকটি তিন বছর ধরে এই অবস্থার শিকার হচ্ছেন তার কথা আমরা কি বলবো।
বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সচিবের কাছে জানতে চান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। একই প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালককেও সতর্ক করেন তিনি।
বৃষ্টির অজুহাত এখন আর চলে না উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, কাজ শেষের ব্যাপারে যখনই তাদের কাছে যাওয়া হয় তখনই তারা আশ্বাস দেয়। কিন্তু এখন আর সময় নেই। বৃষ্টিকে অজুহাত হিসাবে দাঁড় করাই, কিন্তু কতো বৃষ্টি এভাবে পার হয়ে গেছে তার কোনো হিসেব নেই। এখনই কাজ শেষের ব্যাপারে তাগিদ দেন মন্ত্রী।
সেসময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ঈদের আগে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার এলাকায় যাত্রী দুর্ভোগ কমানোর চেষ্টা করবেন তারা। এলজিআরডি মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সাথে কথা বলে ঈদের আগে যাতে এ দুর্ভোগ কমানো যায় সে চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।
মহাসড়কে যানজট কমাতে ফেরিঘাটে গাড়ির লম্বা সারি কমানোর পরামর্শ দেয় হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন।
রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং রাস্তার ওপর পার্কিং বন্ধের কথা বলেন ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক।
রাস্তায় ট্রাক পার্কিং এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক চেষ্টা করে একটি রাস্তার একপাশ আমি খালি করতে পেরেছি। রাস্তার দুই ধারে লাইন ধরে গাড়ি পার্কিং করে রাখা হবে আর তা পরে জনদুর্ভোগ বাড়াবে, একজন মেয়র হিসাবে আমি তা মেনে নিতে পারি না।
ঈদের আগে পর্যায়ক্রমে গার্মেন্টস ছুটি দেওয়া এবং পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় না করার কথাও বলেন বৈঠকে যোগ দেওয়া সংশ্লিষ্টরা।
ঈদে যাত্রীদের বাড়তি সুবিধা দিতে নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন রেলপথমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে ঈদের সময় সর্বোচ্চ যাত্রীসেবা দেয়ার কথাও জানান তিনি।
জীবন এবং জীবিকার স্বার্থে নিরাপত্তারর কথা স্মরণে রাখতে মালিক, যাত্রী এবং শ্রমিকদের আহবান জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ঈদের সময় সকলে ভালোভাবে বাড়ি ফিরতে পারবেন বলে আশাবাদ রাখেন তিনি।
আর ঈদের সময় যাত্রী দুর্ভোগ কমাতে ১ জুলাই থেকে লঞ্চ ও ফেরিঘাটে ইজারাদার প্রথা থাকবে না বলে জানান নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।
নিজের কাজটা সঠিকভাবে করলে ঈদে মানুষের যাত্রাপথে দুর্ভোগ কমানো সম্ভব বলে মনে করেন বৈঠকে অংশ নেয়া সবাই।







