কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে নিখোঁজের তিনদিন পর হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থানীয় মন্দিরের এক সেবায়েতকারির অর্ধগলিত মৃতদেহ পাহাড়ে গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার ২২ এপ্রিল দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল ইউনিয়নের পুলিশ্যাঘোনা এলাকার পাহাড় থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায়।
মৃত উদ্ধার নয়ন দাশ (৪০) চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বৈলতলী এলাকার গোপাল দাশের ছেলে। তিনি খুরুশকুল ইউনিয়নের পূর্ব হামজার ডেইল এলাকার সার্বজনীন শ্রী শ্রী শিব কালী মন্দিরের সেবায়েতকারি হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি পরিবার মন্দিরের পাশে বসবাস করতেন।
স্থানীয়দের বরাতে হিমেল রায় বলেন, গত ১৯ এপ্রিল রাতে নয়ন দাশ ঘর থেকে বের হয়ে ফিরেননি। পরদিন সকাল থেকে স্বজন ও স্থানীয়রা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি।
এ নিয়ে সোমবার বিকালে নয়ন দাশের স্ত্রী অঞ্জনা শীল কক্সবাজার সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর থেকে নিখোঁজের সন্ধানে পুলিশ তৎপরতা শুরু করে। বুধবার সকালে খুরুশকুলের পুলিশ্যাঘোনা এলাকার পাহাড়ে গাছের সাথে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করেছে।
পরিদর্শক (তদন্ত) বলেন, মৃতের শরীরে পঁচন ধরায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানের চামড়াও উঠে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিখোঁজের দিনই তার মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনাটি নিছক আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা পুলিশ এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানান হিমেল রায়।
ঘটনার ব্যাপারে মৃত উদ্ধার নয়ন দাশের স্ত্রী অঞ্জনা শীল বলেন, গত ১৯ এপ্রিল রাত ৯ টার দিকে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি নয়ন দাশকে ঘর থেকে ডেকে বের করে নিয়ে যায়। পরে দীর্ঘক্ষণ পরও ঘরে না ফেরায় তিনি আশপাশের সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও স্বামীর সন্ধান পাননি। পরদিন সকালে মন্দির থেকে অন্তত ৫০/৬০ গজ দূরে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ের জঙ্গলে স্বামীর পরিহিত চাদর জাতীয় কাপড় পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এতে অঞ্জনা শীল ধারণা করেন স্বামীর উপর বিপদজনক কোন কিছু ঘটেছে। এতে আশংকা থেকে তিনি সোমবার কক্সবাজার সদর থানায় স্বামীর নিখোঁজের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
এ ঘটনার ব্যাপারে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক জনি ধর বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ঘর থেকে ডেকে নিয়ে নিখোঁজ থাকার ৩ দিন পর পাহাড়ে গাছের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ায় পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে নয়ন দাশের সাথে স্থানীয়ভাবে কারও শত্রুতা না থাকলেও কারা, কি কারণে এ ঘটিয়েছে -এব্যাপারে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় জানান, মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।








