ঈদুল আযহা আগামী ২ সেপ্টেম্বর, ঘরমুখো জনগণ ইতিমধ্যে সেভাবে ঢাকা ছাড়তে শুরু না করলেও মহাসড়কগুলোতে ট্রাফিক জ্যাম লক্ষ করা যাচ্ছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে শুরু করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লেগে আছে দীর্ঘ যানজট। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪ লেন হবার পরে স্বাভাবিক দিনগুলোতে ট্রাফিক জ্যাম কম থাকলেও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে জ্যাম থাকে প্রায় সারাবছর। প্রতিবছর ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষদের মনে থাকে শঙ্কা আর পথে থাকে সীমাহীন দূর্ভোগ। সড়ক ও যোগাযোগ সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসের বাণী আর পদক্ষেপও থাকে প্রায় একইরকম। প্রতিবছর ঈদের আগে মন্ত্রীসহ দায়িত্বশীলদের দেয়া বক্তব্যগুলো মেলালে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে আমাদের ধারণা। তবে গতবার পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক ছিল। এবছরের প্রেক্ষাপট অবশ্য একটু খারাপ, কারণ সারাদেশে ভয়াবহ বন্যা। সড়ক ও রেলপথ দুই’ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওইসব পথ ঈদযাত্রার চাপ নিতে পারবে কিনা, তা নিয়ে জনগণের সঙ্গে সঙ্গে আমরাও চিন্তিত। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও সড়ক ও জনপথের প্রকৌশলীদের ছুটি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ২৪ ঘণ্টা মহাসড়কে থেকে পরিস্থিতি সামলানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হয়তো যানজট ও পরিবহনের গতি স্বাভাবিক রাখা যাবে, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথে নতুন করে দেখা দেয়া সমস্যা হয়তো ভোগাবে। বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর এই সড়কে প্রতিদিন তিন হাজারের কমবেশি যানবাহন চললেও বর্তমানে প্রায় ১০ হাজারের ওপরে যান চলে। ঈদের সময় তা বেড়ে যায় অনেক গুণ। বিষয়টি সমাধানে স্বল্পমেয়াদী কোনো পদক্ষেপ খুব একটা কার্যকর হবে বলে মনে হয় না। বিগত বছরগুলোর ইতিবাচক ও নেতিবাচক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া দরকার বলে আমরা মনে করি এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে বলেও আমাদের আশাবাদ।









