মুসলিম প্রধান ৬টি দেশের নাগরিকদের ৯০ দিনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করে নতুন একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পূর্বের এমন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ৭টি দেশ থাকলেও নতুনটিতে ইরাককে বাদ দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও এর ফলে সকল শরণার্থীদের জন্য ১২০ দিনের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ হবে। আগামী ১৬ মার্চ থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে।
অতিরিক্ত ভিসা পরীক্ষা ব্যবস্থায় রাজি হওয়ায় ইরাককে এবারের নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয়নি। তবে আগের তালিকার ছয়টি দেশকে এবারও রাখা হয়েছে। দেশগুলো হলো ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেন, সুদান, লিবিয়া এবং সোমলিয়া।
ট্রাম্পের একজন সহযোগী কেলিয়ান কনওয়ে বলেছেন, নতুন এই আদেশে ইরাককে বাদ দেয়া হলেও অন্য দেশগুলোর ওপর ৯০ দিনের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
পূর্বের নিষেধাজ্ঞাটি আদালতে খারিজ হয়ে যাওয়ার পর নতুন এই নির্বাহী আদেশ দেয়া হলো। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের যুক্তি, আমেরিকাকে সন্ত্রাসবাদের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে এটি দরকার। তবে নতুন এই আদেশের বিরুদ্ধেও মামলা হতে যাচ্ছে। নিউইয়র্কের এ্যাটোর্নি জেনারেল এরিক স্নেইডারম্যান ট্রাম্প প্রশাসনকে আবারও আদালতে নিয়ে যেতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।
এসোসিয়েটেড প্রেস জানায়, কংগ্রেসের একটি দলিল অনুযায়ী যাদের বৈধ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া যারা গ্রীনকার্ড বা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের স্থায়ী অনুমোদনপ্রাপ্ত, তারাও ওই নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেন, কট্টর ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীদের ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা নির্মূল করার লক্ষ্যেই এই আদেশ জারি করা হয়েছে।
১০ দিনের এই আগাম নোটিশের কারণে হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে এর আগেরবার যে বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল তা এড়ানো সম্ভব হবে। কারণ আগের আদেশটি দেয়া হয়েছিল কোন পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই।
তবে ট্রাম্পের এই নতুন আদেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে যাচ্ছে। নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আইনপ্রয়োগকারী কর্মকর্তা এ্যাটর্নি জেনারেল এরিক স্নেইডারম্যান সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনকে আদালতে নিয়ে যেতে প্রস্তুত তার অফিস।
তিনি বলেন, হোয়াইট হাউজ নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনলেও, মুসলিমদের বিরুদ্ধে এর বৈষম্য স্পষ্ট। আমার অফিস নতুন নির্বাহী আদেশ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নিউইয়র্কের পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও অর্থনীতিকে রক্ষায় আমি আবারও (নতুন আদেশের বিরুদ্ধে) মামলা করতে প্রস্তুত।
আরব-আমেরিকান নাগরিক অধিকার সংগঠন দ্য আমেরিকান-আরব এন্টি-ডিস্ক্রিমিনেশন কমিটি (এডিসি) তাৎক্ষণিকভাবে আসন্ন আইনী লড়াইয়ের জন্য অনুদানের আহ্বান জানিয়েছে। বিবিসির কাছে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এই নিষেধাজ্ঞা ইসলাম ও বিদেশীদের প্রতি অহেতুক বিদ্বেষ ও ভীতি সংক্রান্ত।










