এ যেন এক নতুন বাংলাদেশ। নতুন নতুন সব ইতিহাস দিয়ে রচনা করছে ক্রিকেটের সব অন্যরকম গল্প। ক্রিকেটের ক্ষুদ্র সংস্করণ টি-২০ বিশ্বকাপের এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ দল রয়েছে দারুণ ফর্মে। বাছাইপর্বের ফলাফল আসা দুটি ম্যাচে একাধিপত্য বজায় রেখে মূলপর্বের প্রতিপক্ষদের মনে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক জাগানোর মতো যথেষ্ট নজির রেখেছে টাইগার বাহিনী।
বোলারদের ওপর ধারাবাহিকভাবে আগ্রাসন চালানো তামিম ছাড়াও ব্যাটিংয়ে ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে রেখেছেন সাব্বির, সাকিবরা। সৌম্য, মুশফিকরা আসরের শেষ দুটিসহ বাতিল ম্যাচেও নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে না পারলেও বোলারদের দুঃস্বপ্ন উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতার নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অবকাশ নেই।
আবার বোলিংয়ে গতির তান্ডব চালানো তাসকিন, নিয়মিত শিকারী আল-আমিন, মাশরাফি, মুস্তাফিজরাতো রয়েছেনই। তাই এবারের টি-২০ বিশ্বকাপের মূল পর্ব শুরু হতে যাচ্ছে টাইগারদের ইতিহাস গড়ার নতুন সম্ভাবনা।
টি-২০ বিশ্বকাপের এবারের আসরে বাংলাদেশের গ্রুপ টুতে অন্য দলগুলো হলো ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ড। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এদের মধ্যে একমাত্র পাকিস্তানের বিপক্ষেই স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে মাশরাফিরা। আর ভারতের বিপক্ষে মূল দুর্বলতা ব্যাটিংয়ে এখন দলকে সমৃদ্ধ করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বিধ্বংসী তামিম।
উপমহাদেশীয় কন্ডিশন বিবেচনায় ২৬ মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের চেয়েও এগিয়ে রাখা যায় টাইগারদের। সর্বশেষ ২০১৩ সালের টি-২০ ম্যাচটিসহ আগের দুই দেখায় পরাজিত হলেও পরাশক্তি হয়ে উঠা বাংলাদেশের মুখোমুখি না হওয়াটাও কিউইদের পিছিয়ে রাখবে।
তাসমান সাগর পাড়ের আরেক দেশ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিলো ২০১৪ সালের পহেলা এপ্রিল টি-২০’এরই বিশ্ব আসরে ঢাকার মাটিতে। সেই ম্যাচে ৭ উইকেটের বিশাল পরাজয় মেনে নিতে হলেও আমূল পরিবর্তিত অপরিচিত বাংলাদেশ ২১ মার্চের ম্যাচে অন্যরকম অভিজ্ঞতাই দিতে পারে অসিদের।
পাকিস্তানের বিপক্ষে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগে বাংলাদেশকে সাহস যোগাবে সর্বশেষ এশিয়া কাপের দুই ম্যাচে জয়। ভারতের বিপক্ষে শেষ দুই টি-২০’তে পরাজিত হলেও একটি খেলতে হয়েছে তামিম এবং অপরটি মুস্তাফিজকে ছাড়া। দারুণ ছন্দে থাকা তামিম এবং কাটার-স্লোয়ারের বিষ ছোড়া মুস্তাফিজ আগামী ২৩ মার্চ ব্যাঙ্গালুরুতে ফলাফল নির্ধারক হয়ে উঠতে পারেন।
টি-২০ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে সদ্যই এশিয়ায় দ্বিতীয় দল বাংলাদেশের বাছাইপর্ব পরীক্ষায় যেতে হওয়াটা বিরক্তির জন্ম দিলেও তা উল্টো সাপে-বর হয়েছে। প্রস্তুতিতে যেমন পূর্ণতা এসেছে, ঠিক তেমনি তামিমের ব্যাটেও এসেছে সবচেয়ে বড় সুসংবাদ। আন্তর্জাতিক টি-২০তে ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৮৩ রানের এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৭ রানের ঝড় তোলেন তিনি। এছাড়াও বোলিংয়েও আল আমিন, সাকিব, তাসকিনরা বড় অর্জনে প্রত্যাশার সাহস জুগিয়েছেন।
টি-২০ এর বিশ্ব আসর বলতেই অনেকের চোখেই ২০০৭ সালের ক্যারিবীয় বধের আশরাফুলের সেই ইনিংসটার আগ্রাসী শৈল্পিক চিত্রটি স্মরণে আসে। নান্দনিক-ব্যতিক্রমধর্মী সব শটে ২৭ বলে ৬১ রানের অপূর্ব এক ইনিংস খেলেছিলেন একসময়ের বিশ্ব তারকা। সেই ম্যাচে আফতাবও খেলেছিলেন ৪৯ বলে ৬২ রানের অসাধারণ দৃষ্টিনন্দন এক ইনিংস। আজ আশরাফুল-আফতাবরা দলে নেই, তবে তামিম-সৌম্য-সাব্বিরসহ তাসকিন-আল আমিন-মুস্তাফিজের নৈপুণ্যে ইতিহাস গড়ার পথে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে যাচ্ছে টাইগাররা।







