ইংল্যান্ডে সফল মিশন শেষ করে মঙ্গলবার সকালে দেশে ফিরেছে বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। আট ম্যাচের দুটি ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। বাকি ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জয় পেয়েছে তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া দলটি। প্রতিপক্ষ ছিল বিভিন্ন কাউন্টি দলের দ্বিতীয় একাদশ। এবার এইচপি দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নেতৃত্ব ছাপিয়ে আলোচনায় এই তরুণের পারফরম্যান্স।
প্রথম ম্যাচে ১০৬ রানের ইনিংস খেলা শান্ত পরের ম্যাচে খেলেন ১৪৪ রানের অনবদ্য এক ইনিংস। পাঁচ ম্যাচে ব্যাটিং করে দুই সেঞ্চুরি, এক ফিফটিতে করেছেন ৪০৭ রান। দলের জন্য অবদান রাখতে পেরে দারুণ খুশি শান্ত। চোখে-মুখে ধরা দিল বাড়তি উচ্ছ্বাস।
দুই মাস আগে অস্ট্রেলিয়া সফরেও ভাল ব্যাটিং করেছিলেন শান্ত। পেয়েছিলেন একটি সেঞ্চুরি। সেই অভিজ্ঞতা ইংল্যান্ডে কাজে লেগেছে বলে জানালেন এই তরুণ, ‘আমরা প্রায় সবগুলো ম্যাচই খুব ভালভাবে শেষ করে এসেছি। অস্ট্রেলিয়ায় খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে। ওখানকার মতো উইকেটে বাউন্স ছিল, সুইং ছিল। ওই অনুযায়ী ব্যাটিং করার চেষ্টা করেছি। যে কয়টা ম্যাচ ব্যাটিং করেছি, সবগুলো ইনিংস উপভোগ করেছি।’
দুটি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ৮৬ ও ৪৬ রানের দুটি ইনিংসও খেলেছেন ইংল্যান্ডের মাটিতে। এত ভাল ব্যাটিংয়ের পেছনে মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকতে পারাকেই ‘রহস্য’ বলে উল্লেখ করলেন শান্ত, ‘আগের ট্যুরে (অস্ট্রেলিয়ায়) যখন গিয়েছি চিন্তা-ভাবনা ছিল উইকেট কেমন হবে, বল অনেক সুইং করবে। অনেক ধরনের নেতিবাচক চিন্তা ছিল বা নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু ইংল্যান্ডে আমি খুবই ইতিবাচক ছিলাম, জাস্ট আমি আমার ব্যাটিং করে গেছি।’
অনেকদিন ধরেই জাতীয় দলের পাইপলাইনে আছেন শান্ত। এর মাঝে বাংলাদেশের হয়ে একটি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতাও হয়েছে। ভবিষ্যতে আবার সুযোগ পেলে এই অভিজ্ঞতা নিংড়ে দিতে পারবেন বলে আশাবাদী ১৯ বছরের এই তরুণ, ‘যত বেশি এরকম কন্ডিশনে, পরিস্থিতিতে খেলব আমাদের ভবিষ্যতের জন্য তত ভাল হবে। যদি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে আমরা যাই সেখানে খেলতে বা অন্য কোনো টুর্নামেন্ট খেলতে যাই তাহলে আমাদের এই অভিজ্ঞতা কাজে দেবে। আশা করব, বিসিবি এ ধরনের ম্যাচ আয়োজন করবে। ওখানে রান করলে, অনুশীলন করলে কন্ডিশনে মানিয়ে নিতে পারলে অনেক আত্মবিশ্বাস আসে। দেশে ফিরলে ঘরোয়া ক্রিকেট অনেক সহজ মনে হয়।’
সামনেই লংগার ভার্সন ক্রিকেট জাতীয় লিগের দ্বিতীয় রাউন্ড খেলতে নেমে যাবেন শান্ত। তারপর রয়েছে বিপিএল। এসব নিয়ে কী ভাবছেন শান্ত?
‘বিপিএল নিয়ে এখনই পরিকল্পনা করছি না। ভাবনায় এখন জাতীয় লিগ। ওয়ানডে আর ফোর ডে ম্যাচের মধ্যে পার্থক্য আছে। তবে খুব ভিন্নভাবে চিন্তা করি না। কারণ ক্রিকেটই তো খেলতে হবে। ন্যাচারাল যে খেলাটা আছে ওভাবেই খেলব।’







