গাজীপুরের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ ৬ আসামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। ৯ আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ এবং ১১ আসামীকে খালাস দেন আদালত। রায়ে হাইকোর্ট ওই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যার মতো অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন।
দুপুর ১টায় রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ। প্রথমে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তিনি বলেন এই হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের যুবলীগ নেতা মাহফুজুর রহমান মহালের সঙ্গে যুবদল নেতা নুরুল ইসলাম সরকারের দ্বন্দ্বের জেরে। পরে পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নুরুল ইসলামের উৎসাহে সভায় গুলি করে তার সহযোগী দিপু ও শিপু।
এ ধরনের উচ্ছৃঙ্খল কর্মীদের পরিহার না করে নির্ভর করা সুষ্ঠ রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকাশে অন্তরায়। যুব নেতা মহালের সঙ্গে আহসান উল্লাহ মাষ্টারকে হত্যার মধ্য দিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারার চেষ্টা করা হয়েছে।
পর্যবেক্ষণের শেষ দিকে বলা হয়েছে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যার মধ্য দিয়ে তার আদর্শ ও কল্যাণকর কাজ থেকে জাতিকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
এরপরই আসামীদের কী সাজা দেওয়া হয়েছে তা পড়ে শোনান বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ। রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী যুবদল নেতা নুরুল ইসলাম সরকার, নূরুল ইসলাম দিপু, মাহাবুবুর রহমান মাহবুব, শহিদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ, সোহাগ ওরফে সরুর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়।
মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয় আসামী মোহাম্মদ আলী, সৈয়দ আহমেদ মজনু, আনোয়ার হোসেন আনু, রতন মিয়া ওরফে বড় রতন, কাশেম মাতব্বরের ছেলে জাহাঙ্গীর, মশিউর রহমান মশু এবং আবু ছালামকে। আসামী নুরুল ইসলামের যাবজ্জীবন বহাল রাখা হয়, আর আপিল না করায় অহিদুল ইসলাম টিপুর যাবজ্জীবনও বহাল থাকে। তবে, মৃত্যুদ-াদেশ পাওয়া আল আমীন ও ছোট রতন মারা যাওয়ায় তাদের মামলা নিষ্পত্তি করে দেন আদালত। খালাস দেওয়া হয় ১১ আসামীকে।
সকাল থেকেই হাইকোর্টেও ভেতরে-বাইরে জমায়েত হন আহসান উল্লাহ মাস্টারের অনুসারীরা। রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানান স্বজনরা।
আসামীপক্ষ হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানান।
আলোচিত আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিলসহ বিভিন্ন আবেদনের শুনানি চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি শুরু হয়ে শেষ হয় ৮ জুন। ২০০৪ সালের ৭ মে টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক সভায় আহসান উল্লাহ মাস্টারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
২০০৫ সালে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকার সহ ২২ আসামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। এর মধ্যে মারা গেছে ছোট রতন ও আল আমিন। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয় রাকিব উদ্দিন সরকারসহ ৬ আসামীকে। খালাস দেওয়া হয় দুজনকে।
রায়ের বিরুদ্ধে আপিল, জেল আপিল ও ফৌজদারী বিবিধ আবেদন করেন আসামীরা। ওই সময়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে ১২ জন এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে ৫ জন আটক ছিল। প্রথম থেকে পলাতক আছে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত ৮ আসামী।









