বর্ষা ঋতুকে উৎসবে সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। অসাম্প্রদায়িক লোকজ উৎসবকে সারাদেশে বিস্তৃত করতে বদ্ধপরিকর উদীচী। বুধবার বর্ষার প্রথম প্রহরে রমনার বটতলায় গান, নাচ আর কবিতা দিয়ে প্রিয় ঋতু বর্ষাকে বরণ করে নেন উদীচীর শিল্পীরা।
গ্রীষ্মের অগ্নি-ঝরা দাবদাহ যখন প্রকৃতিকে করে বিবর্ণ, শুষ্ক এবং জনজীবন করে তোলে অসহনীয় তখনই রিমঝিম বৃষ্টিধারা প্রকৃতিকে করে সজীব। আকাশে মেঘের ঘনঘটা কৃষককে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে, তার চোখের তারায় ওঠে খুশির ঝিলিক।
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষকসমাজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে বৃষ্টির জন্য। বর্ষার প্রবল জলধারা মাটিকে করে সিক্ত। মাঠে মাঠে শস্য বোনার উৎসব শুরু হয়।
বর্ষা বাঙালির জীবনে উৎসবেরও ঋতু। নৌকা বাইচ, সাঁতার প্রতিযোগিতা, কাদামাটি খেলা এ সব মিলেই বর্ষা উৎসব। যা আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সমৃদ্ধ।
ঋতুভিত্তিক পালা-পার্বন, খেলাধুলা এবং উৎসব আয়োজনে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান, বাঙালি-আদিবাসীসহ সকল ভাষাভাষি সম্প্রদায়ের মধ্যে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সহাবস্থান ছিল তাও আজ ধর্মীয় উগ্র সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে ভুলুণ্ঠিত প্রায়।
এ সকল উৎসব আয়োজনও আজ গ্রাস করে ফেলছে বহুজাতিক পুঁজি। উৎসব তার স্বাভাবিক প্রকৃতি হারিয়ে ফেলছে। অসাম্প্রদায়িক আয়োজনসমূহ সম্প্রদায়িকতার আশ্রয়স্থলে পরিণত হচ্ছে। সাধারণের মনোজগতে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াচ্ছে মৌলবাদী গোষ্ঠী।
ফলে দেশের তরুণ সমাজ ধর্মের নামে এসব জঙ্গীগোষ্ঠীর রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে। জাতিকে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অসাম্প্রদায়িক প্রাণের উৎসব বর্ষাকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে উদীচীর আহ্বান।







