বিনোদন

আশীষ খন্দকার সত্যিকারের একজন আর্টিস্ট: ‘হায়দার’ শেষে নির্মাতা

আশীষ খন্দকারের ছবি, নির্মাতা ও অভিনেতা, বাংলার চলচ্চিত্রে পরিচিত. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

নির্মাতা আশীষ খন্দকারের ছবি, তিনি বাংলার চলচ্চিত্র ও নাটকে পরিচিত একজন শিল্পী।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অভিনেতা, নির্দেশক ও নাট্যকার আশীষ খন্দকারকে কেন্দ্রীয় চরিত্র করে নতুন একটি ওয়েব ফিল্ম এর শুটিং সেরেছেন তরুণ নির্মাতা আনুশ। ছবি ঘর এবং আনুশ ফিল্মস এর প্রযোজনায় এই ওয়েব ফিল্মটির নাম ‘হায়দার’। সিরিয়াল কিলারের গল্প বলবে ছবিটি। এমন একজন অভিজ্ঞ মানুষকে নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো এই তরুণ নির্মাতার? চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে শেয়ার করলেন সেই গল্প, শুনেছেন মিতুল আহমেদ:

নতুন ছবি করলেন, শোনা যাচ্ছে সেই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন আশীষ খন্দকার?
আমার নতুন ছবির নাম ‘হায়দার’। এই ছবিতে নাম ভূমিকায় আশীষ খন্দকারকে দেখা যাবে। ছবিটিতে একজন সিরিয়াল কিলারের গল্প উঠে আসবে।

আশীষ খন্দকার ও ছোট মেয়ে ট্রেনের জানালায় বসে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ
হায়দার ছবির একটি ‍দৃশ্যে আশীষ খন্দকার

এমন অভিনেতার সাথে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?
আশীষ দার সাথে কাজ করে আমার মনে হয়েছে তিনি নিজেই একজন ইউনিভার্সিটি। বহু বিষয়ে তাঁর জানাশোনা আছে, সিনেমার ভাষা বোঝেন। খুবই দুর্দান্ত একজন মানুষ, ব্যক্তিগতভাবে আমি তার সাথে কাজ করে অনেক কিছু শেখার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। সিনেমা করতে গিয়ে উনার কাছ থেকে আমি অনেক বিষয়ে জেনেছি।

তাকে যখন আপনার গল্পটা বললেন, তার প্রতিক্রিয়া কী ছিলো?
আশীষ খন্দকার, তাকে নিয়ে কাজ না করলেও তার সম্পর্কে একটা জিনিস আগে থেকেই জেনেছিলাম যে, গল্প-স্ক্রিপ্ট পছন্দ না হলে শুধু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তিনি কাজ করেন না। আমি যখন তার কাছে ‘হায়দার’ এর গল্প নিয়ে প্রথম গেলাম, তখন বিষয়টা আরো ভালোভাবে আন্দাজ করলাম। খুব ফিল করলাম যে, এটা শুধু কথার কথা নয়! তিনি সত্যি সত্যি পারিশ্রমিকের চেয়ে কাজটি কেমন, কী গল্প, ডেপথ আছে কিনা- এসব বিষয় নিয়ে আগে কথা বলেন। চরিত্র নিয়ে আগে কথা বলেন। সব পছন্দ হলে তারপর অন্য বিষয়।

তার আরেকটা গুণ দেখলাম, তিনি যখন একটা কাজে থাকেন- তখন তাকে অন্য কোনো কাজে কেউ যুক্ত করতে পারবেন না। সেই কাজটি শেষ করে তবেই নতুন কাজে হাত দিবেন তিনি। মানে আমি বলতে চাইছি, কমিটমেন্টের জায়গায় তিনি শতভাগ সৎ একজন মানুষ। তার সান্নিধ্য আমাকে বুঝতে শিখিয়েছে, আর্টিস্ট এমনই হওয়া উচিত। খুব সহজে তিনি ডিরেক্টরকে রিড করতে পারেন।

দুই নারী মুখোমুখি, গভীর আলোতে নাটকীয় মুহূর্ত. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ অভিনেতা হিসেবে গুণী মানুষ আশীষ খন্দকার। তার অভিনয়ের ব্যাপ্তিকাল লম্বা সময়ের। সেই জায়গায় আপনি তরুণ একজন নির্মাতা। তাকে নির্দেশনা দিতে কখনো জড়তা কাজ করেছে কিনা?
না, এরকম অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়নি। আর সেটা হয়নি আশীষ খন্দকারের জন্যই। কারণ শুটিং শুরুর আগেই সেই জড়তাটা তিনি আমার কিংবা তার নিজের স্বার্থেই কাটিয়ে ফেলেন। ব্যাসিকেলি তিনি খুব ফ্রেন্ডলি আচরণ করেন। হ্যাঁ, এটা সত্য যে সিনিয়র আর্টিস্টদের নিয়ে কাজ করলে জুনিয়র ডিরেক্টরের একটু জড়তা থাকা স্বাভাবিক। আবার অনেক সিনিয়র অভিনেতা হয়তো ডমিনেটিংটাও করতে চান। কিন্তু আশীষ দার ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি। শুটিংয়ে যাওয়ার আগেই তিনি আমাদের মধ্যে একটা কমফোর্ট রাস্তা তৈরী করে দিয়েছিলেন। যে কারণে কোনো কিছু মন মতো না হলে তাকে বলতে পারতাম যে, দাদা এটা ওইভাবে চাই। এই স্বস্তির পথটা আশীষ দা নিজেই করে দিয়েছেন।

দূর থেকে রাফ টাফ একজন মানুষ বলে মনে হয় তাকে। আপনি কীভাবে তাকে দেখেছেন, তাকে নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
দূর থেকে আশীষ দাকে দেখে যা মনে হয়, কাছে গেলে তা জলে পরিণত হবে। মানে তিনি একজন শিশুর মতো মানুষ। শুরুতেই তিনি বলেছিলেন, প্রিপ্রোডাকশনের আগে গল্প, স্ক্রিপ্ট, চরিত্র, পরিকল্পনা- সবকিছু নিয়ে কথা বলবেন, ডিস্টার্ব করবেন কিন্তু শুটিং শুরুর পর একবিন্দু কথা বলবেন না। সত্যি সত্যি শুটিং শুরুর পর আশীষ দা একেবারে চুপ হয়ে গেলেন, একবিন্দু কথা বলেননি! শুটিংয়ে থাকার সময়টা আশীষদাকে একেবারে বাচ্চা একটা মানুষের মতো মনে হয়েছে।

আশীষ খন্দকারকে কেউ ঠিকভাবে তুলে ধরতে পারেননি, এমন ভাবনা থেকেই তাকে ‘হায়দার’ এ কাস্ট করলেন? নাকি চরিত্রের ডিমান্ড? 
ব্যাসিকেলি আমি একজন রাইটার। যখন আমি কোনো গল্প বা চরিত্র নিয়ে ভাবি, সহজাতভাবেই ভিজ্যুয়ালি আমার সামনে চরিত্রের মানুষটা এসে দাঁড়ায়। আর বেশির ভাগ সময় হুমায়ুন ফরীদি স্যার ভাবনায় চলে আসতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমি কাজে আসার আগেই তিনি মারা গেছেন। এরপর বহুবার গল্প লিখতে গিয়ে এমন হয়েছে যে, হুমায়ুন ফরীদি স্যারের বিকল্প হিসেবে আশীষ খন্দকারের কথা ভেবেছি। কিন্তু ‘হায়দার’ গল্পটা যখন আমি লিখছিলাম, তখন সত্যিকার অর্থেই আশীষ দা আমার মাথায় ছিলেন। এটি আমি তার সঙ্গে যখন প্রথম সাক্ষাৎ করি, তখনও বিষয়টি বলেছি যে- হায়দার চরিত্রটি আমি আপনাকে ভেবেই লিখেছি, যদি আপনি এই চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি না হন, তাহলে এই কাজটি হয়তো আমি করবো না।

নদীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নারী পর্যটক, দুটি বড় ব্রিজের নিচে. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ ‘হায়দার’ এর আগেওতো আপনি একাধিক সিনেমা নির্মাণ করেছেন, সেগুলোর কী খবর?
হায়দার সহ এখন পর্যন্ত আমার তিনটি ছবি মোটামুটি কমপ্লিট। এরআগে দুটো সিনেমা হলো ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ ও ‘পাপনামা’।

সাধারণত একটি ছবি রিলিজের পর নতুন আরেকটি ছবি করতে দেখা যায়। কিন্তু আপনি তিনটি ছবি করে ফেলেছেন, অথচ একটিও রিলিজ দেননি। কেন?
আসলে আমার প্ল্যান ছিলো অন্যরকম। যদি সিনেমা রিলিজ দিয়ে পয়সা না তুলতে পারি, তাহলে রিলিজ নিয়ে আপাতত ভাববো না। ছবি তৈরী হয়ে থাকুক, তাতে সমস্যা নাই। সিনেমা মুক্তি দিয়ে যখন টাকা তুলে আনা সম্ভব হবে, প্রয়োজনে তখন রিলিজ দিবো। আরেকটা বিষয় মাথায় ছিলো, ভেবেছিলাম ২০২১ বা ২০২২ এর মধ্যে অনলাইন প্লাটফর্মগুলো বাজার তৈরী করতে পারবে, সেজন্যও কিছুটা অপেক্ষায় আছি। বিশেষত আমার ‘নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প’ নামে যে সিনেমাটা আছে, আমি এটা ওটিটি প্লাটফর্মের জন্যই আর রিলিজের কথা ভাবিনি।

বিষয়:আশীষ খন্দকার নিষিদ্ধ প্রেমের গল্প পাপনামা সিরিয়াল কিলার হায়দার

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…