মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামী আমীর মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে আপিলের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর তার আইনজীবীরা সাক্ষ্য-প্রমাণে নিজামীর অপরাধ স্বীকার করে নেয়ার পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন অমি রহমান পিয়াল।
তিনি লিখেছেন, ১৯৭১ সালে ইসলামী ছাত্রসংঘের অল পাকিস্তান চীফ ছিলো মতিউর রহমান নিজামী। বাই ডিফল্ট রাজাকার আলবদর বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা গোটা পাকিস্তানের। আজ সে আইনজীবী মারফত ট্রাইবুনালে স্বীকারোক্তি দিলো তার যুদ্ধাপরাধ। স্বীকার করে নিলো মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর গণহত্যা, ধর্ষণ ও লুটপাটে রাজনৈতিক ও সামরিক সহায়তার। স্বীকার করে নিলো তার দল জামায়াতে ইসলামী একটি যুদ্ধাপরাধী সংগঠন ছিলো। বিনিময়ে সে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই চেয়েছে!
ভাবো নিজামী, স্মরণ করো আজ থেকে ৪৪ বছর আগে এই ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের কথা। দেশজুড়ে মাটিলেপা মাইক্রোবাস নিয়ে বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের অপহরন করছিলো তোমার আলবদররা, যাদের কর্মকাণ্ডে অভিভূত তুমি দৈনিক সংগ্রামে উপসম্পাদকীয় লিখলে-আলবদর একটি বিস্ময় নামে। ১৯ ডিসেম্বর রায়েরবাজারে সেই অপহৃত বুদ্ধিজীবীদের শ’খানেকের সন্ধান মিললো, শেয়াল-কুকুরের ভোজ থেকে বেঁচে যাওয়া শ’খানেক লাশ!
কি নির্মম অত্যাচার করেই না হত্যা করা হয়েছিলো ওই মেধাবী সূর্যসন্তানদের। বাংলার লেখক কবি ডাক্তার শিক্ষক সাংবাদিক প্রকৌশলীদের। বেয়নেটে খুচিয়ে পাজর বিদীর্ণ করে তাদের কলিজা বের করেছিলো তোমার প্রিয় আলবদররা, তোমার সতীর্থরা, তোমার আজ্ঞাবহ সৈনিকরা! সেই লাশ মাড়িয়ে তোমাকে ক্ষমা করবে কোন বাঙালী!
নো মার্সি মতিউর রহমান নিজামী’
আদিম হিংস্র মানবিকতার আমি যদি কেউ হই
স্বজন হারানো শ্মশানে তোদের চিতা আমি তুলবোই’
নো মার্সি, জয় বাংলা...






